খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

গাড়ি-প্লট না নেওয়ার ঘোষণায় টিআইবির সাধুবাদ, সম্পদ বিবরণী প্রকাশের আহবান

খবর প্রতিবেদন |
০১:২১ এ.এম | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণাকে বহুল প্রতীক্ষিত, সুচিন্তিত ও সময়োপযোগী উল্লেখ করে সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য ও সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত সকলের আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ এবং সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতি বিরোধী কৌশল প্রণয়নের আহŸান জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার এক বিবৃতিতে টিআইবি বলছে, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা দীর্ঘদিনের  বৈষম্যমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। তবে এর পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই সুফল পেতে রাষ্ট্র মেরামতে ঘোষিত ৩১ দফা রূপরেখা, নির্বাচনী ইশতেহার, জুলাই সনদ এবং দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে একটি সমন্বিত জাতীয় দুর্নীতি বিরোধী কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন জরুরি।
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গণরায়ের মূল লক্ষ্য ছিল সুশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠন। বিপুল জনরায় পাওয়া সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।
তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি ক্রয়খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থের দ্ব›দ্ব, দলীয়করণ, চাঁদাবাজি, ঘুষ ও অর্থপাচারের মতো অনিয়ম রোধে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ ছাড়া জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব নয়।
সরকার পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে সব সংসদ সদস্য ও সরকারি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের আয়-ব্যয় ও সম্পদ বিবরণী বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের দাবি জানায় টিআইবি। জুলাই সনদের সংশ্লিষ্ট ধারার আলোকে দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে নিজ ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদবিবরণী প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার আহŸান জানানো হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ চর্চা কেবল জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্ত সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করতে হবে।
টিআইবি আরও মনে করে, শুল্কমুক্ত সুবিধা পরিহারের ঘোষণা বৈষম্যবিরোধী চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার একটি ইতিবাচক সূচনা। তবে সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় ও অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সমন্বিত অংশগ্রহণে একটি কার্যকর জাতীয় দুর্নীতিবিরোধী কৌশল গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ