খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৬ ফাল্গুন ১৪৩২

বনবিভাগের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা

ডাকাত আতঙ্কে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছে দুবলার চরের দশ সহস্রাধিক জেলে

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি |
০১:৩৬ এ.এম | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


বনদস্যু আতংকে দুবলারচরের দশ সহস্রাধিক শুঁটকিকরণ জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। গত দুই দিনেও সন্ধান মেলেনি সোমবার রাতে অপহৃত ২০ জেলের। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বনবিভাগ রাজস্ব ঘাটতির আশংকায় রয়েছেন।
দুবলা ফিসারমেন গ্র“পের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার দুপুরে দুবলার আলোরকোল থেকে মোবাইল ফোনে বলেন সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় বনদস্যুদের হাতে অপহরণের আতংকে দুবলার দশ সহস্রাধিক শুঁটকিকরণ জেলে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্র“য়ারি) সন্ধ্যা থেকে সাগর ও সুন্দরবনের নদীতে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছে এবং মৌসুমের শেষে এসে কি নিয়ে বাড়ি যাবেন সে চিন্তায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
তিনি বলেন সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি গ্র“প সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন ও সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জেলেদের ধরে নিয়ে আটকে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দিচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের বেদম মারধর করছে দস্যুরা। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছে। সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকার সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণা করেছিলো। জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলো। অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময় সুন্দরবনে দস্যরা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে বলে দুবলা ফিসারমেন গ্র“পের সভাপতি জানিয়েছেন।
আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, আগে প্রবাদ ছিলো “জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ” এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে সাগরে গেলে ডাকাত”। দস্যুদের তান্ডবে মাছ ধরা বন্ধ করা হয়েছে। গত ১৫ দিনের মধ্যে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করে নিয়ে গেছে। দস্যুদের কব্জায় এখন কমপক্ষে শতাধিক জেলে আটক রয়েছে। গত সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দস্যুরা তাদের সাথে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে গেছে। গত দু’দিনেও ২০ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে মোতাসিম ফরাজী জানান।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জেলেপল্লী দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় তাদের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ফরেষ্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেষ্ট রেঞ্জার মোঃ খলিলুর রহমান বলেন, বনদস্যু আতঙ্কে তাদের ষ্টেশন অফিস থেকে কোন জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার পাস নিচ্ছেন না। যে কারণে তাদের মাসিক রাজস্বের টার্গেটে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা বাজারের জালাল মোল্লা, আনোয়ার সওদাগর, রিপন হাওলাদারসহ কয়েকজন মুদি দোকানী বলেন জেলেরা সুন্দরবনে না যাওয়ায় তাদের বেচাকেনা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। 
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ