খুলনা | শুক্রবার | ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৩৯ পি.এম | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ২০২৪ সালের সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্রদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তার সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম ইয়ং-হিউনকেও ৩০ বছরের কারাদণ্ড মুখোমুখি হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের তিন বিচারকের প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। শুনানিতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ংকে আটক করার জন্য সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগেও ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এই মামলায় প্রসিকিউটররা সাবেক প্রেসিডেন্টের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিলেন। তবে আদালত ৬৫ বছর বয়সি ইওলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

একই মামলায় সাবেক গোয়েন্দা প্রধান রোহ সাং-উনকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড, সাবেক পুলিশ প্রধান চো জি-হোকে ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক প্রধান কিম বং-সিককে ১০ বছরের এবং ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পুলিশ গার্ডের সাবেক প্রধান মোক হিউন-তায়েকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা এক সপ্তাহের মধ্যে আপিল করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে আদালত।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লি সাং-মিনকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দেশটিতে সামরিক আইন জারি ব্যর্থ প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখার জন্য সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট। ৬১ বছর বয়সি লিকে পুলিশ এবংফায়ার সার্ভিসকে সরকারের সমালোচক গণমাধ্যমগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়ারও অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত কর হয়।

এছাড়াও গত জানুয়ারিতে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সুকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। সামরিক আইন ঘোষণায় ভূমিকা রাখার অভিযোগে দণ্ডিত ইউনের মন্ত্রিসভার তিনি দ্বিতীয় সদস্য।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর সামরিক আইন জারি করেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক–ইওল। তবে তীব্র প্রতিবাদের মুখে সামরিক আইন জারির মাত্র ছয় ঘণ্টার মাথায় তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি। এ ঘটনার জেরে ১৪ ডিসেম্বর ইউনকে পার্লামেন্টে অভিশংসন করা হয় এবং প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরের বছর ১৫ জানুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স

প্রিন্ট

আরও সংবাদ