খুলনা | শুক্রবার | ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭ ফাল্গুন ১৪৩২

ইবাদত, সৌন্দর্য ও তাকওয়ার অনন্য নিদর্শন কালীগঞ্জে দৃষ্টিনন্দন হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রা:) জামে মসজিদ

হাবিব ওসমান, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) |
১১:২৫ পি.এম | ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকার মিঠাপুকুরে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রা:) জামে মসজিদ। যার স্থাপত্যশৈলী, নান্দনিক কারুকাজ ও প্রশান্তিময় পরিবেশের কারণে ইতোমধ্যেই মুসল্লিদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। দূর থেকে মসজিদটির দিকে তাকালে মনে হয় যেন কোনো রাজকীয় প্রাসাদ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কাছে এলেই হৃদয় উপলব্ধি করে, এটি কোনো প্রাসাদ নয়, বরং মহান আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্মিত এক পবিত্র ইবাদতখানা।
সাদা ঝকঝকে দেয়াল, নান্দনিক নকশায় সজ্জিত কাঁচের দরজা, মনোমুগ্ধকর গম্বুজ ও মিনার এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সমন্বয়ে নির্মিত এই মসজিদ ইসলামী স্থাপত্যের সৌন্দর্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি। মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে উন্নতমানের টাইলস, নরম ও পরিচ্ছন্ন কার্পেট এবং প্রতিটি স্তম্ভে সূক্ষ¥ ও শিল্পসম্মত কারু কাজ। পুরো পরিবেশ যেন মুসল্লিদের হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত করে এবং একাগ্রচিত্তে ইবাদতের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
প্রায় ২৫ শতক জমির ওপর নির্মিত তিনতলা বিশিষ্ট এই মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এছাড়া আন্ডারগ্রাউন্ডেও নামাজ আদায়ের সুব্যবস্থা রয়েছে, যা বিশেষ করে জুমা ও ঈদের নামাজে মুসল্লিদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করে।
স্থানীয় মুসল্লি মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে পারা আমাদের জন্য অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। এখানে প্রবেশ করলেই অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভূত হয়। মসজিদের সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা এবং নীরব পরিবেশ মুসল্লিদের মনকে দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে দূরে সরিয়ে আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন হতে সহায়তা করে। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো এখানে কোনো দানবাক্স নেই, কোনো আনুষ্ঠানিক কমিটি নেই। সবকিছু শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে, যা সত্যিই বিরল এবং অনুকরণীয় একটি দৃষ্টান্ত।
ঝিনাইদহ শহর থেকে আগত মুসল্লি হাফেজ মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, এই মসজিদে এসে নামাজ আদায় করে মনে হয়েছে যেন জান্নাতের কোনো বাগানে দাঁড়িয়ে আল্লাহর ইবাদত করছি। এত সুন্দর ও পরিপাটি পরিবেশ খুব কম জায়গায় দেখা যায়। যারা এই মসজিদ নির্মাণ করেছেন, মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং এটিকে তাদের জন্য সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কবুল করেন, আমরা সেই দোয়া করি।
মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এই মসজিদে ইমামতি করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মুসল্লি এখানে এসে নামাজ আদায় করেন। তারা শুধু নামাজ আদায় করেই ফিরে যান না, বরং মসজিদের পরিবেশ, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তিতে মুগ্ধ হয়ে যান। এই মসজিদের পরিবেশ মুসল্লিদের অন্তরে তাকওয়া বৃদ্ধি করে এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করতে সহায়তা করে। আমরা সবসময় চেষ্টা করি মসজিদটিকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও ইবাদতের উপযোগী রাখতে, যাতে মুসল্লিরা শান্তি ও একাগ্রতার সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত করতে পারেন।”
জানা যায়, প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের নিজস্ব জমিতে তাঁর জামাতা, যশোর জেলার আমেরিকা প্রবাসী মোঃ আব্দুল খালেক সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদটি বর্তমানে ইবাদত, স্থাপত্যশৈলী ও ইসলামী সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শনে পরিণত হয়েছে।
ইসলামের সৌন্দর্য, স্থাপত্যের নান্দনিকতা এবং ইবাদতের প্রশান্তির অপূর্ব সমন্বয়ে ঝিনাইদহের এই হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রা:) জামে মসজিদ আজ মুসল্লিদের হৃদয়ের এক বিশেষ ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। এটি শুধু একটি ইবাদতখানা নয়, বরং ইসলামের সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও আল্লাহভীতির এক জীবন্ত প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ