খুলনা | মঙ্গলবার | ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

৬ জন গুরুতর আহত

নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে পিতা-পুত্রসহ নিহত ৪

নড়াইল প্রতিনিধি |
১২:৪৯ এ.এম | ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


নড়াইল সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে এলাকার আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বাবা ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো ৬ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার ভোররাত ৫টার দিকে বড়কুলা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 
নিহতরা হলেন বড়কুলা গ্রামের খলিল শেখ (৬৫), তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ (৩৫) একই গ্র“পের প্রতিবেশী ফেরদৌস শেখ (৪৬) এবং প্রতিপক্ষ গ্র“পের সমর্থক  ওসিকুর ফকির (৪০)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,  নড়াইল সদর উপজেলা সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্লা ও প্রতিপক্ষ খলিল শেখের লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে ভোররাতে চেয়ারম্যান খায়েরের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ঘর ও লোকজনের উপর হামলা চালায়।  হামলার সময় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলে খলিল শেখ,  তাহাজ্জুদ শেখ ও ফেরদৌস শেখ নিহত হন। এ সময় প্রতিপক্ষ খায়ের গ্র“পের সমর্থক ওসিকুর ফকিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে নিহতরা সবাই পার্শ্ববর্তী তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রাম্য দলাদলির কারনে প্রায় ১০ বছর আগে তারা এই বড়কুলা  গ্রামে এসে বসবাস শুরু করেন। তারপরেও এখানে বিবাদমান দু’টি পক্ষের  মধ্যে  দ্বন্দ্ব সংঘাত চলতে থাকে। নিহত খলিল শেখের স্ত্রী মঞ্জু আরা বেগম বলেন, শেষ রাতে সেহরি খাওয়ার সময় পার্শ্ববর্তী তারাপুর গ্রাম থেকে সাবেক চেয়ারম্যান খায়ের মোল্লার ৫০-৬০ জন লোক দেশি অস্ত্র নিয়ে বাড়ি প্রবেশ করে। তারা ঘর থেকে আমার স্বামী ও সন্তানকে বের করে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় আমাদের পক্ষের সমর্থক ফেরদৌস শেখকেও এলোপাথাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় কম বেশি আরো ৫-৬ জন আহত হয়। এছাড়া বেশ কিছু বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।  এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও পুলিশী টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই বিষয়ে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোঃ আল মামুন শিকদার বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে পুলিশ সর্বোতভাবে কাজ করে চলেছে। অপরাধী যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ