খুলনা | মঙ্গলবার | ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি

নানা উত্থান পতনের পর মূল্যায়িত হলেন কেসিসির নয়া প্রশাসক মঞ্জু

এন আই রকি |
০১:৩২ এ.এম | ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


নানা উত্থান পতনের অবশেষে মূল্যায়িত হলেন খুলনার সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু। খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) প্রশাসক পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্ল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি কর্পোরেশন-১ শাখা) থেকে খুলনাসহ ছয়টি কর্পোরেশনে রবিবার নতুন প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারী করে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বতী সরকার সকল সিটি কর্পোরেশনের মেয়রদের পদচ্যুতির পর সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে বিভাগীয় কমিশনাররা মেয়রের দায়িত্ব পালন করছিলেন। কেসিসির প্রশাসক পদে নিয়োগ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতাসহ খুলনাকে চাঁদাবাজ ও দখলমুক্ত করার জন্য তিনি কাজ করে যাবেন বলে জানিয়েছেন।  
সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা বিভাগীর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গেল ১২ ফেব্র“য়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে (সদর-সোনাডাঙ্গা) ধানের শীষ প্রতীকে তিনি জামায়াতের প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন হেলালের কাছে পরাজিত হন। মঞ্জুর পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ঝড় ওঠে। বিশেষ করে দলীয় কোন্দলের কারণে মঞ্জু পরাজিত হয়েছে বলে একে অপরকে দোষারোপ করার অভিযোগ ওঠে। নজরুল ইসলাম মঞ্জু ২০২১ সালের আগে দীর্ঘ ২৮ বছর খুলনা মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০১৮ সালে খুলনা-২ আসনে দলীয় প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচন এবং একই বছর কেসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। দুইটি নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নিকট। পরাজিত হওয়ার পর মঞ্জু ভোটে কারচুপির অভিযোগ করেছিলেন। তবে এর আগে ২০০৮ সালে তৎকালীন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানকে পরাজিত করে সারাদেশে চমক লাগিয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু।   
কিন্তু ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর মঞ্জুকে বাদ দিয়ে কেন্দ্র থেকে মহানগর ও জেলা বিএনপি’র আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পর তিনি ঐ বছরের ১২ ডিসেম্বর খুলনা প্রেসক্লাবে কমিটি পুনঃমূল্যায়নের জন্য সংবাদ সম্মেলন করেন। এই ঘটনার পর তাকে শোকজ এবং পরবর্তী খুলনার বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েন মঞ্জু। কিন্তু তিনি মাঠ ছাড়েননি কখনও। তার অনুসারীদের নিয়ে বিএনপি’র সকল কার্যক্রমে সরব ছিলেন। কিন্তু তার দলীয় কোন পদবী না থাকায় খুলনা-২ আসনটির মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে পড়েন মহানগর বিএনপি’র সভাপতি শফিকুল আলম মনা এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। কিন্তু গেল বছরের শেষ দিকে বিএনপি’র দলীয় প্রধান তারেক রহমান ফোন করে মঞ্জুকে খুলনা-২ আসনে কাজ করতে বলেন। পরবর্তীতে তাকে দলীয় মনোনয়নও দেন। 
এদিকে মঞ্জুর সাথে নগর বিএনপি’র দীর্ঘদিনের দূরত্ব কোনো ভাবেই যেন লাঘব হচ্ছিল না। খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের মাধ্যমে নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সাথে নগর বিএনপি’র দূরত্ব কিছুটা কমে। তবে নির্বাচনের সময়ে দেখা গেছে মহানগরের বেশির ভাগ নেতারাই নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পাশে ছিলেন না। গেল ১২ ফেব্র“য়ারি সংসদ নির্বাচনে মঞ্জুর পরাজয়ের পিছনে দলীয় কোন্দল এবং দীর্ঘদিনের রাজনীতির দূরত্ব অন্যতম কারণ ছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মঞ্জুর পরাজয়ের পর নগর বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা ফের কেসিসি মেয়র প্রার্থী নিয়ে গুঞ্জন শুরু করে। অনেকেই বলেন, মঞ্জুর রাজনৈতিক পদ নেই তাকে কেন প্রার্থী করা হবে। সবার সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি মাঠের নেতা, ত্যাগী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অবশেষে মূল্যায়িত করেছেন। আগামীতে খুলনা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করতে এটাই শেষ সুযোগ এমন কথাও সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন অনেক নেতা। 
এ বিষয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু  সোমবার দুপুরে মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। গত পরশুদিন প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকেছিলেন। কিছুটা অসুস্থ বোধ করছেন। চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করেই খুলনায় ফিরবেন। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক পদে তাকে দায়িত্ব দেওয়ায় তিনি দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খুলনাবাসীর জন্য সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন। সকল সুখ, দুঃখে তিনি তার পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। খুলনার উন্নয়নের জন্য যা করণীয় সকল কিছু করবেন। ইতিপূর্বে খুলনাবাসীর সাথে যেমন ছিলেন ভবিষ্যতেও তেমনটাই থাকবেন। খুলনাকে মাদকমুক্ত এবং দখলমুক্ত করতে তিনি কাজ করে যাবেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ