সময়ের খবর

খুলনা | সোমবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ৬ মাঘ ১৪৩২

চালের চড়া মূল্য: মিল মালিকদের জবাবদিহিতায় আনুন

|
১২:১৫ এ.এম | ২৩ মার্চ ২০২৫


এটা এক বড় প্যারাডক্স যে, বাজারে চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত; কিন্তু এর দাম বাড়ছে। অর্থনীতির সূত্র অনুযায়ী দাম কমার কথা। বাজার ঘুরলে দেখা যাবে, রমজানে শাক-সবজি, মাছ-মাংসসহ বেশকিছু পণ্যের দাম ক্রেতাদের স্বস্তিতে রেখেছে বটে; কিন্তু যখনই চালের বাজারে যাচ্ছেন ক্রেতা, তখনই তিনি দেখছেন অন্যরকম চিত্র। কেন চালের মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি? অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চালের বাজার অস্থিতিশীল করছে চারটি মিল কোম্পানি। রোজায় অতি মুনাফা করতে গিয়ে মিল পর্যায়ে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) মিনিকেট চালের দাম তারা ৫০০ টাকা বাড়িয়েছে। খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। অবস্থাটা হলো, এখন কেজিপ্রতি মিনিকেট চাল কিনতে ক্রেতাকে ব্যয় করতে হচ্ছে ৯০ টাকা। এ পরিস্থিতি অবশ্য দু-একদিনে হয়নি। বস্তুত গত ৪ মাস ধরেই অস্থির ছিল চালের বাজার। গত বছর ডিসেম্বরে মিলপর্যায়ে প্রতি বস্তা মিনিকেট চাল ৩৩০০ টাকায় বিক্রি হলেও জানুয়ারিতে বস্তায় বেড়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। তবে ১৫ দিন আগে চালের দাম কিছুটা কমেওছিল। 
চালের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসাবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা যা বলছেন, তাতে চারটি মিল কোম্পানিকেই মূলত দায়ী ধরা যায়। তারা বলছেন, আগামী বৈশাখে নতুন মিনিকেট চাল বাজারে ছাড়া হবে, এখন মিলগুলোয় মিনিকেট নেই। হাতেগোনা চারটি কোম্পানির কাছে রয়েছে চাল। তারাই এখন দাম বাড়িয়ে পাইকারি আড়তদারদের কাছে চাল ছাড়ছেন। এই মিলমালিক চতুষ্টয় যে দাম ধার্য করছেন, তার বাইরে যাওয়ার জো থাকছে না। তাদের কথা, এই চারটি কোম্পানি চালের বাজারকে জিম্মি করে ফেলেছে যেহেতু, তাদের চাল ব্যবস্থাপনা তদারকির আওতায় আনা গেলে দাম কমে আসতে বাধ্য।
চালের বর্তমান বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে অবশ্যই। প্রথম কথা, শুধু মাছ-মাংস ও শাক-সবজির দাম ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকলেই চলবে না, কারণ চালই যদি কেনা না যায়, তরকারি দিয়ে ভোক্তা কী করবে? মানুষের প্রধান খাদ্যপণ্য চাল। এই চালের বাজার স্থিতিশীল রাখাই বড় কথা। স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষ এখন চাল কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থা সরকারের জনপ্রিয়তার ক্ষতিও করছে। সুতরাং সরকারকে চালের বাজার যে কোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। যেসব মিলমালিক সিন্ডিকেট করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় অযৌক্তিকভাবে চালের দাম বাড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে নিতে হবে ব্যবস্থা। বৈশাখে নতুন চালের আশায় বসে থাকলে চলবে না। খুব দ্রুতই ভোক্তা শ্রেণিকে স্বস্তিতে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে হবে।  

্্ট

আরও সংবদ