খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সেমিফাইনালের দুয়ারে নিউজিল্যান্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
১১:১৫ পি.এম | ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে নিউজিল্যান্ডকে হারাতেই হতো শ্রীলঙ্কার। এমন সমীকরণের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬১ রানে হেরে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় দাসুন শানাকার দলের। বিপরীতে শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে সেমিফাইনালের দুয়ারে নিউজিল্যান্ড। দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে তারা। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। পাকিস্তান যদি শ্রীলঙ্কার কাছে হারে তাহলে ইংলিশদের কাছে হেরেও সেমিফাইনালে উঠবে নিউজিল্যান্ড। আর স্যান্টনাররা যদি ইংল্যান্ডকে হারাতে পারে তাহলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে কিউইরা সেরা চারে উঠবে। তবে পাকিস্তান যদি শ্রীলঙ্কাকে হারায় এবং কিউইরা যদি শেষ ম্যাচে হারে তখন রানরেট বিবেচনায় আসবে।

এ জয়ের মাধ্যমে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে অবস্থান করছে নিউজিল্যান্ড। সমান ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে ইংল্যান্ড। ১ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে পাকিস্তান। আর দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরে তলানিতে অবস্থান স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার।

১৬৯ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটাই ভালো করতে দেননি কিউই পেসার ম্যাট হেনরি। পাওয়ার প্লেতে ফেরান দুই লঙ্কান ব্যাটারকে। প্রথম বলেই শূন্যরানে আউট হন পাথুম নিশাঙ্কা। তৃতীয় ওভারে চারিথ আসালাঙ্কাকে আউট করেন হেনরি। আউট হওয়ার আগে ৯ বল খেলে মাত্র ৫ রান করেন আসালাঙ্কা।

এরপর নিজের স্পিন বিষে শ্রীলঙ্কাকে কোণঠাসা করে ফেলেন রাচিন রবীন্দ্র। চোখের পলকেই একে একে চার লঙ্কান ব্যাটারকে সাজঘরের পথ দেখান এই বাঁহাতি স্পিনার। তাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা। আউট হওয়ার আগে কুশল মেন্ডিস ১১, পাভান রতœায়েক ১০, দলনেতা দাসুন শানাকা ৩ ও দুসান হেমন্ত ৩ রান করেন।

এদিকে দুনিথ ভেল্লালাগেকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান কামিন্দু মেন্ডিস। কিন্তু সেই লড়াই জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২৩ বলে ৩১ রান করে আউট হন তিনিও। ভেল্লালাগে থামেন ২৯ রানে। আর ৭ রানে চামিরা ও ২ রানে থিকসানা অপরাজিত থাকেন। ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৭ রান করে শ্রীলঙ্কা।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন রাচিন রবীন্দ্র। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটাই তার সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া দুটি উইকেট পেয়েছেন ম্যাট হেনরি।

এর আগে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরুতে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ লঙ্কান দলনেতা দাসুন শানাকা। ব্যাট করতে নেমে ঝোড়ো সূচনার ইঙ্গিত দেন ওপেনার ফিল অ্যালেন। কিন্তু চতুর্থ ওভারে তাকে ফেরান থিকসানা। আউট হওয়ার আগে১৩ বলে ২৩ রান করেন অ্যালেন। আরেক ওপেনার টিম সেইফার্ট থামেন মাত্র ৮ রানে।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে ইতিবাচক ব্যাট করতে থাকেন রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপস। দুজন মিলে গড়েন ৪৩ রানের জুটি। কিন্তু এই দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর রানের গতি মন্থর হয়ে যায়। ১২তম থেকে ১৬তম ওভার পর্যন্ত এই ৫ ওভারে রান আসে মাত্র ১৫ রান। রাচিন ৩২, ফিলিপস ১৮, মিচেল ৩ ও চ্যাপম্যান শূন্যরানে আউট হন।

শেষ চার ওভারে চাপ সামলে ব্যাট হাতে ক্রিজে ঝড় তোলেন দলনেতা মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঞ্চি। দুজন মিলে গড়েন ৮৪ রানের জুটি। মাত্র ২৬ বলে দুটি চার ও চারটি ছয়ে ৪৭ রান করেন স্যান্টনার। আর ২৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন ম্যাককঞ্চি।

শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট নেন মহেশ থিকসানা ও দুশমান্থা চামিরা। একটি উইকেট পেয়েছেন দুনিথ ভেল্লালাগে।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ