খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৩ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১

পাকিস্তানকে হেসেখেলে উড়িয়ে সিরিজ নিউজিল্যান্ডের

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০১:৪২ পি.এম | ০২ এপ্রিল ২০২৫


সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড দু্ই দলই তাদের ক্রিকেটার হারিয়েছিল চোটের কারণে। তার ওপর পাকিস্তান ম্যাচটি খেলতে নেমেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার (আইসিসি) শাস্তি মাথায় নিয়ে। প্রথম ওয়ানডেতে স্লো-ওভার রেটের কারণে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের শাস্তি গতকাল দিয়েছে আইসিসি।

হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে লেগেছে বড্ড এলোমেলো। ওয়ানডে সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমে বিন্দুমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারল না মোহাম্মদ রিজওয়ানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান। ৮৪ রানে জিতে এক ম্যাচ আগেই ওয়ানডে সিরিজ জিতল নিউজিল্যান্ড।

২৯৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ইনিংসে শুরু থেকেই ধস নামতে থাকে। বাবর আজম, আব্দুল্লাহ শফিক, ইমাম উল হকরা নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারের ক্যাচিং অনুশীলন করিয়েছেন। উসমান খানের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েও সদ্ব্যবহার করতে পারেননি ইমাম। ওপেনিংয়ে নেমে ১২ বল খেলে করেছেন ২ রান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা পাকিস্তান ১১.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ৩২ রানে পরিণত হয়। যেখানে ১২তম ওভারের প্রথম ও চতুর্থ বলে সালমান আলী আগা ও রিজওয়ানকে ফিরিয়েছেন বেন সিয়ার্স।

৫২ রানেই অবশ্য পাকিস্তান হারাতে পারত ষষ্ঠ উইকেট। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে ফাহিম আশরাফের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন নিউজিল্যান্ডের পেসার নাথান স্মিথ। আম্পায়ার সঙ্গে সঙ্গে আঙুল তুলেন। ফাহিমও রিভিউ নিয়েছেন। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান পাকিস্তানি অলরাউন্ডার। ষষ্ঠ উইকেটে তৈয়ব তাহিরের সঙ্গে ৫৫ বলে ৩৩ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন ফাহিম। ২১তম ওভারের চতুর্থ বলে তাহিরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন স্মিথ।

তাহিরের বিদায়ের ঠিক পরের ওভারেই আউট হয়েছেন মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে ২১.১ ওভারে ৭ উইকেবে ৭২ রানে পরিণত হয় পাকিস্তান। একপ্রান্ত আগলে রেখে ফাহিম খেলতে থাকলেও অন্য পাশ থেকে তেমন সাহায্য সহযোগিতা পাননি তিনি। এরই মধ্যে ২৫তম ওভারের চতুর্থ বলে পাকিস্তান খায় আরেক ধাক্কা। নিউজিল্যান্ডের পেসার উইল ও’রুর্কের শর্ট বল হারিস রউফের হেলমেটে আঘাত হানে। আহত অবসর হয়ে মাঠ ছাড়েন রউফ।

রউফ মাঠ ছাড়ার পর পাকিস্তান দ্রুত হারায় আরেকটি উইকেট। ২৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জ্যাকব ডাফিকে পুল করতে যান আকিফ জাভেদ। স্লিপে দাঁড়িয়ে থাকা ড্যারিল মিচেল সহজেই সেটা তালুবন্দী করেছেন। ২৮.২ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৪ রানে পরিণত হওয়া পাকিস্তানের ইনিংসের শেষটা তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল। এরপর নবম উইকেটে নাসিম শাহ ও ফাহিম গড়েন ৫৬ বলে ৬০ রানের জুটি। ৩৮তম ওভারের চতুর্থ বলে ফাহিমকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বেন সিয়ার্স। ছক্কা মারার ঠিক পরের বলে ফাহিম খোঁচা দিতে গিয়ে নিউজিল্যান্ডের উইকেটরক্ষক মিচেল হের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন। ৮০ বলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৩ রান করেন ফাহিম।

৯ উইকেট পড়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন সুফিয়ান মুকিম। পাকিস্তানের পরাজয় যখন সময়ের ব্যাপার, তখন আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন নাসিম। ৪১ বলে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। দশম উইকেটে মুকিমের সঙ্গে ২২ বলে ৩৪ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন নাসিম। ৪২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে নাসিমকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ইনিংসের ইতি টানেন সিয়ার্স। ৪১.২ ওভারে ২০৮ রানে পাকিস্তান অলআউট হলে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যায়। ৪৪ বলে চারটি করে চার ও ছক্কায় ৫১ রান করেন নাসিম।

ম্যাচসেরা হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের উইকেটরক্ষক ব্যাটার হে। ৭৮ বলে ৭টি করে ছক্কা ও চারে করেন ৯৯ রান। ধরেছেন ৪ ক্যাচ। সাত নম্বরে নেমে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত খেললেও ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে পরিণত না করতে পারার আক্ষেপটা তাই রয়েই গেল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ড এখন এগিয়ে ২-০ ব্যবধানে। ৫ এপ্রিল মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ড।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক রিজওয়ান। প্রথমে ব্যাটিং পাওয়া নিউজিল্যান্ড ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে করেছে ২৯২ রান। যেখানে ইনিংসের শেষ ওভারে ওয়াসিম জুনিয়রকে পিটিয়ে একাই ২২ রান নিয়েছেন মিচেল হে। দুটি করে ছক্কা ও চার হে মেরেছেন।

পাকিস্তানের সুফিয়ান মুকিম, ওয়াসিম নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। দুজনেই ১০ ওভার করে বোলিং করেছেন। মুকিম ও ওয়াসিম খরচ করেন ৩৩ ও ৭৮ রান। যেখানে এক ওভার মেডেন দিয়েছেন মুকিম। আর ওয়াসিম হয়ে খেলেন ম্যাচে পাকিস্তানের সবচেয়ে খরুচে বোলার। একটি করে উইকেট পেয়েছেন হারিস রউফ, আকিফ জাভেদ ও ফাহিম আশরাফ।

২৯ মার্চ নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে পাকিস্তানকে ৭৩ রানে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এই ম্যাচেই স্লো-ওভার রেটের কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। আইসিসির আচরণবিধির ২.২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বোলিং শেষ করতে না পারলে প্রতি ওভারের জন্য ম্যাচ ফি-এর পাঁচ শতাংশ করে জরিমানা করা হয়। পাকিস্তান দুই ওভার কম বোলিং করেছিল। সেই ম্যাচের মাঠের আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউন ও পল রেইফেল, তৃতীয় আম্পায়ার মাইকেল গফ এবং চতুর্থ আম্পায়ার ওয়েন নাইটস অভিযোগ এনেছেন। শাস্তি দেন ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো।

্রিন্ট

আরও সংবদ