খুলনা | শুক্রবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১

ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, নেই প্রস্তুতি

|
১২:৩২ এ.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৫


মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প বাংলাদেশকে কি বার্তা দিয়ে গেল? এখানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কতখানি? প্রস্তুতিও বা কেমন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পের উচ্চ ঝুঁকিতে আছে। কোনো ধরনের প্রস্তুতি নেই। 
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, বাংলাদেশেও মিয়ানমারের মতো একই মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চল উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, “বাংলাদেশে যে ভূমিকম্পের ঝুঁকি আছে, সেটা বোঝা যাবে গত কয়েক বছর ছোট ও মাঝারি মানের ভূমিকম্প বহুবার হয়েছে। এটা বড় ভূমিকম্পের আলামত। ভূমিকম্পের যে রিটার্ন পিরিয়ড একশ বা দেড়শ’ বছর, আমরা কিন্তু তার কাছাকাছি আছি। ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অনেক বেশি। ঢাকায় ঝুঁকি কিন্তু অনেক বেশি। এখানে ভবনগুলোর মান অত্যন্ত দুর্বল।”
গত শুক্রবার (২৮ মার্চ) দুপুরে মিয়ানমারে সাত দশমিক সাত মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর সাগাইংয়ে ভূপৃষ্ঠের ১৬ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূকম্পটির এপিসেন্টার বা উৎপত্তিস্থল। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত¡ জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, মিয়ানমারে সাত দশমিক সাত এবং ছয় দশমিক চার মাত্রার দু’টি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মারাত্মক এই ভূকম্পনের রেশ মিয়ানমারের দুই প্রতিবেশী থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশেও পৌঁছেছিল। বাংলাদেশে তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, থাইল্যান্ডে বেশ তাÐব দেখা গেছে। ঝড়েছে বেশ কয়েকজনের প্রাণও। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে শত শত মানুষ।  
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ খান বলেন, “বাংলাদেশ তো অত্যান্ত জনবহুল এলাকা। এখানকার রাস্তাঘাটগুলো খুবই সরু। আমরা যদি থাইল্যান্ড বা মিয়ানমারের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে এমন একটি ভূমিকম্প বাংলাদেশে হলে ক্ষয়ক্ষতি হবে ব্যাপক।”  
ভূতত্ত¡বিদরা বলছেন, এই ভূমিকম্প যদি বাংলাদেশমুখী প্লেটে ঘটত, তাহলে এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব হতো, যা অকল্পনীয়। বাংলাদেশসহ ভারত ও মিয়ানমারের কিছু অংশজুড়ে সুবিশাল চ্যুতি বা ফল্ট থাকায় একটি দেশে ভূমিকম্প হলে তার পার্শবর্তী দেশে যেকোনো মুহূর্তে বড় ভূমিকম্প হতে পারে, এমন শঙ্কা থেকে যায়। অভিন্ন সময়ে মিয়ানমারের সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছয়টি দেশে এই ভূমিকম্প প্রমাণ করল বাংলাদেশ বড় ভূমিকম্প ঝুঁকিতে। ভূ-কাঁপুনির তেমন কোনো পূর্বাভাসের ব্যবস্থা না থাকায় মানুষ রয়েছেন শঙ্কা-উদ্বেগ আর অনিশ্চয়তায়।
ভূতত্ত¡বিদ ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, “সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত আট মাত্রার বেশি ভূমিকম্প সৃষ্টি হওয়া মতো শক্তি জমা হয়ে আছে। যেকোনো সময় সে শক্তি বের হয়ে আসতে পারে। এই শক্তি একবারে বের হতে পারে, আবার ধাপে ধাপেও বের হতে পারে। এতে সিলেট ও চট্টগ্রাম ছাড়াও সব থেকে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে রাজধানী।”
জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্যমতে, বাংলাদেশ ভূকম্পনের সক্রিয় এলাকায় অবস্থিত। দুর্যোগ সূচক অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি শহরের মধ্যে রয়েছে ঢাকা। সা¤প্রতিক বছরগুলোতে ছোটোখাটো কম্পন দেশের আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা নির্দেশ করে।

্রিন্ট

আরও সংবদ