খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকারকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে

|
১২:৩০ এ.এম | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছু সংকটে। সেসবের প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণে। রাষ্ট্রের কোষাগার ফাঁকাপ্রায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই থেকে জানুয়ারি) রাজস্ব আয় লক্ষের চেয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে। অন্যদিকে সরকারের ঋণ এবং দেনার পরিমাণ বেড়েছে বহুগুণে। শুধু বিদ্যুৎ খাতেই দেশি-বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির কাছে সরকারের দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাতের আর্থিক দেউলিয়াত্বকেই তুলে ধরে। এমন পরিস্থিতি নতুন সরকার কিভাবে সামলাবে, তা-ই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। সবচেয়ে বড় ঘাটতি আয়কর খাতে, ২৮ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। আমদানি পর্যায়ে ঘাটতি রয়েছে ১৫ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এ ছাড়া ভ্যাট খাতে ঘাটতি রয়েছে ১৫ হাজার ৫০৬ কোটি টাকা।
পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, গ্যাস-বিদ্যুতের ঘাটতি, ঋণের উচ্চ সুদহারসহ নানা কারণে দেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন ব্যাহত হয়েছে। ফলে আমদানি কমেছে এবং আমদানি থেকে আদায় করা রাজস্বও কমেছে।
প্রতিবেদনে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশি-বিদেশি কোম্পানির কাছে বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। মন্ত্রী এই পরিস্থিতিকে ‘ফিন্যান্সিয়াল ব্যাংক্রাপ্ট’ বা কার্যত দেউলিয়া বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সামনে আরো কঠিন পথ। সেচ মৌসুমে ও গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা কয়েক গুণ বাড়বে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) তথ্য থেকে জানা গেছে, চলতি ফেব্র“য়ারি মাসে বিদ্যুতের চাহিদা ১৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট, পরের মাস অর্থাৎ মার্চে সেই চাহিদা দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট আর এপ্রিল-মে মাসে বিদ্যুতের চাহিদা হবে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। বাড়তি চাহিদার জোগান কিভাবে হবে? সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে।
নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এখন অনেকেই আশা করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাবে। মানুষের এ প্রত্যাশা পূরণে সরকারকে সব পরিস্থিতি কঠোরভাবে মোকাবেলা করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উলে­খযোগ্য উন্নতি করতে হবে। তাহলে বিনিয়োগ বাড়বে, বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায়েও গতি আসবে। পাশাপাশি রাজস্ব ঘাটতি পূরণে সরকারকে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ