খুলনা | শুক্রবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৮৬ জনে

খবর প্রতিবেদন |
০১:৫৭ এ.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৫


মিয়ানমারে ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ৮৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩৯ জন আহত এবং ৩৭৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের সময় শুধু মসজিদে অবস্থানকারী সাত শতাধিক মুসল্লি নিহত হয়েছেন। দুর্যোগে দুর্গম এলাকায় জরুরি ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পে থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ২২। দেশটিতে শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৭২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
আলজাজিরা জানায়, মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশটিতে চীনা দূতাবাসের ত্রাণ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য স্থানীয় রেড ক্রসকে ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ইউয়ান (২,০৬,৬৮৫ ডলার) মূল্যের নগদ সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে।
এদিকে চীনা রেড ক্রসের একটি ত্রাণবহরে মিয়ানমার জান্তা গুলি চালিয়েছে। বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার রাতে ভূমিকম্প কবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে আসা একটি দলের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি চালায়। তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মির (টিএনএলএ) বক্তব্য, সামরিক বাহিনী ৯টি গাড়ির একটি বহরে ভারি মেশিনগান ব্যবহার করে গুলি চালিয়েছে। বহরটি উত্তর শান রাজ্যের নাউং চো শহরতলির মধ্য দিয়ে মান্দালয়ের দিকে যাচ্ছিল। 
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দাবি, গুলির ঘটনাটি সতর্কতামূলক ছিল। গাড়িবহরটি এ অঞ্চল দিয়ে যাবে, তা তাদের জানানো হয়নি। বহরটি থামানোর জন্য গুলি চালানো হয়, তবে কেউ আহত হয়নি। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের উদ্ধারকারী দল ও ত্রাণ সরবরাহ কার্যক্রম নিরাপদে চলমান রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বেইজিং আশা করে, মিয়ানমারের সব পক্ষ  ভূমিকম্পে ত্রাণ প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেবে।   
ভূমিকম্পে ছয়টি অঞ্চলের ২৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে খাদ্য, আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য জরুরি তহবিলে ১২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।  
বুধবারও মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে একটি হোটেলের ধ্বংসাবশেষ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। যেসব অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে জান্তার লড়াই চলছে, সেসব অঞ্চলে ত্রাণ সহায়তা চ্যালেঞ্জের মুখে। সামরিক সরকারকে মানবিক সাহায্যের জন্য অবাধ প্রবেশাধিকার ও সাহায্য সংস্থাগুলোর ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহŸান জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। 
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ভূমিকম্প জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য ক‚টনৈতিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে। ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ত্রাণ সহায়তা পাঠানোয় ক‚টনৈতিক কার্যক্রম ফের শুরু হয়েছে। 
বুধবার থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিন অং হ্লাইং কাল শুক্রবার ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে (৩-৪ এপ্রিল) যোগ দেবেন। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক বিশ্লেষক আংশুমান চৌধুরী বলেন, ভারত, চীন ও রাশিয়ার মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো ভূমিকম্প পরিস্থিতির সুযোগে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইবে। 
ভূমিকম্পের পর জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা বলেন। এসব দেশ থেকে লাখ লাখ ডলার সহায়তা ইতোমধ্যে হাতে পেয়েছে। শত শত উদ্ধারকর্মী মিয়ানমারে পৌঁছেছে।     
২০২১ সালের অভ্যুত্থানে সৃষ্ট সংঘাতের ফলে জান্তা সরকার ক‚টনৈতিকভাবে ক্রমাগত তাদের অবস্থান হারিয়ে ফেলে। যুদ্ধ পরিস্থতির সৃষ্টির ফলে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়

্রিন্ট

আরও সংবদ