খুলনা | শুক্রবার | ০৪ এপ্রিল ২০২৫ | ২০ চৈত্র ১৪৩১

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণায় বিলম্ব হলে গণতান্ত্রিক দলগুলো আন্দোলনে নামবে, খুলনায় প্রিন্স

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:১৫ এ.এম | ০৩ এপ্রিল ২০২৫


বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) খুলনা মহানগরের মহানগরের উদ্যোগে বুধবার বিকেল ৪টায় বিএমএ ভবন মিলনায়তনে দেশের সংস্কার, নির্বাচনসহ সাম্প্রতিক বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি মহানগর সভাপতি এইচ এম শাহাদাৎএর সভাপতিত্বে এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান রাসেলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে মুখ্য আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিপিবি কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, সংস্কার নির্বাচন আন্দোলন ও সা¤প্রতিক রাজনীতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক, বামগণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর ১৯৯০, ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে গণতান্ত্রিক ও সা¤প্রদায়িক বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সমাজ বিপ্লব সম্পন্ন করতে হবে। নীতিনিষ্ঠ বামগণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তি এ দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভ‚মিকা পালন করবে। তিনি বলেন গত ৫৪ বছরে ক্ষমতাসীনরা ন্যূনতম ভোটের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এমনকি একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা পর্যন্ত গড়ে তুলতে পারেনি। তিনি বলেন দুর্বিত্তায়িত অর্থনীতি বহাল রেখে গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। বরঞ্চ এই অবস্থার মধ্যে জন্ম নেবে দুর্বিত্তায়িত রাজনীতি।  
তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং দল নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা। কিন্তু এই সরকারের অনেকের কথাই মনে হয়, তারা বিশেষ কারোর স্বার্থ করতে চান। তিনি বলেন, অন্ধকারের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়নি। সরকারের দুর্বলতার সুযোগে তারা যেকোন সময় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। তাই আর দেরি না করে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার করা প্রয়োজন ততটুকু সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করাই এখনকার জরুরি কর্তব্য। তিনি বলেন, সরকার এ কাজে অহেতুক কালবিলম্ব করলে অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির সাথে আলোচনা করে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করতে আমরা বাধ্য হব। তিনি বলেন গণঅভ্যুত্থানের সুযোগে অনেক উগ্রপন্থীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এরা মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস ঐতিহ্যের উপর আক্রমণ পরিচালনা করছে। বিভিন্ন জায়গায় মব সন্ত্রাসের নামে নানা অপতৎপরতা পরিচালনা করছে। তিনি দেশবাসীকে এসব অপতৎপরতা রুখে দাঁড়ানোর আহŸান জানান।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন আমরা দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছি, নব্য ফ্যাসিবাদের উত্থান দেখার জন্য নয়। নতুন করে ভয়ের রাজত্ব দেখার জন্য নয়। দখলদারিত্ব চাঁদাবাজি দেখার জন্য নয়। তিনি অবিলম্বে ২০২৪-এর জুলাই আগস্টের হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িতদের বিচার ও একাত্তরের গণহত্যাকারীদের বিচারের ধারা অব্যাহত রাখার আহŸান জানান। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শান্তি পাওয়ার জন্য গণঅভ্যুথানে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু অনেকের কাছে সেই আশা আজ ফিকে হতে চলেছে। বামপন্থীরা এই আকাক্সক্ষা পূরণে দায়িত্বশীল আচরণ করার মধ্য দিয়ে জনগণের সেই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের সংগ্রামকে এগিয়ে নেবে।
সভায় উপস্থিত খুলনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রায় অর্ধশত প্রশ্ন উত্থাপন করেন। রুহিন হোসেন প্রিন্স এসব প্রশ্নের উত্তর দেন, বিভিন্ন বিষয়ে উপস্থিতদের মতামত শোনেন। তিনি এসব মতামতকে সিপিবি গুরুত্ব দেবে বলেও উল্লেখ করেন।  
মতবিনিময় সভায় অন্যান্য মধ্যে বক্তৃতা করেন সিপিবি কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য ও খুলনা জেলা সাধারন সম্পাদক এস এ রশীদ, মহানগর সাধারণ সম্পাদক এড. নিত্যানন্দ ঢালী, নাগরিক সমাজের আহŸায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. আ ফ ম মহসীন, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এড. সন্দীপ রায়, পোল্ট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন, সাংস্কৃতিক কর্মী শাহীন জামাল পন, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টারীর সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব, সাবেক ছাত্রনেতা মনিরুল ইসলাম রিপন, সন্তোষ কর্মকার, যুবনেতা শাহ ওয়াহিদুজ্জামান জাহাঙ্গীর। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিএমএ খুলনা জেলা সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম, মানবাধিকার কর্মী অ্যাড. মমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলÑবাসদ, খুলনা জেলা সমন্বয়ক জনার্দন দত্ত নাণ্টু, সদস্য সচিব কোহিনুর আক্তার কনা, সিপিবি নেতা কমরেড এড. চিত্তরঞ্জন গোলদার, মিজানুর রহমান বাবু, ডা. এস এম ফরিদুজ্জামান, অশোক বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা নিতাই পাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা কিংশুক রায়, রঙ্গলাল মৃধা, সুখেন রায়, গাজী আফজাল, আব্দুল হালিম, পূর্ণেন্দু দে বুবাই, তোফাজ্জেল হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সরকার ভূষণ চন্দ্র তরুন, পলাশ রায়, অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা, সৈয়দ লুৎফুল হক মিঠু, অসীম আনন্দ দাস, শরূফুল ইসলাম সেলিম, অশোক ঘোস, দুলাল সরকার, নাগরিক নেতা আব্দুল হালিম, পাটকল শ্রমিক নেতা নুর ইসলাম, সাংবাদিক মোতাহার হোসেন বাবু, আবু তৈয়েবা, পপলু, শিক্ষক নেতা প্রদীপ সাহা, মোটর শ্রমিক মেকানিক নেতা আইনুল ইসলাম, উদীচী খুলনা জেলা সভাপতি অসীম বিশ্বাস, শ্রমিক নেতা আব্দুর রহমান মোল্লা, এস এম চন্দন, সাইদুর রহমান বাবু, ওয়াহিদুর রেজা বিপ্লু, নারী নেত্রী শাহীনা আক্তার, জাহানারা আক্তারী, মিনু পাল, রেখা কুন্ডু, দিপু মন্ডল, যুবনেতা ধীমান বিশ্বাস, মৌফারশের আল লেনিন, সৈয়দ রিয়াসাত আলী রিয়াজ, ছাত্রনেতা সুদীপ্ত রায়, প্লাবন চন্দ প্রমুখ। 
 

্রিন্ট

আরও সংবদ