খুলনা | শনিবার | ০৫ এপ্রিল ২০২৫ | ২১ চৈত্র ১৪৩১

যা বললেন প্রেস সচিব শফিকুল আলম

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭% শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

খবর প্রতিবেদন |
০১:০৯ এ.এম | ০৪ এপ্রিল ২০২৫


যুক্তরাষ্ট্র স¤প্রতি বাংলাদেশের পণ্যের ওপর শুল্ক ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি করার ঘোষণা দিয়েছে। এর বাইরে বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারসহ বেশ কিছু দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন করে শুল্ক ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তার এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রতি মার্কিন শুল্ক হার ১৫ শতাংশ থেকে ৩৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বাংলাদেশি পণ্যের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এই শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক নীতি ও অন্য দেশগুলোর মাঝে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। একে অনেক দেশ ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করছে, কারণ একাধিক দেশই নিজেদের পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে। যেখানে বাংলাদেশি পণ্যে এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ করে শুল্ক ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি হয় প্রায় ৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন (৮৪০ কোটি) ডলার, যা প্রধানত তৈরি পোশাক। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন (৭৩৪ কোটি) ডলারে। নতুন করে উচ্চ মাত্রার শুল্ক আরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দিনটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ অভিহিত করে ট্রাম্প বক্তব্যের শুরুতে বলেন, কয়েক দশক ধরে আমাদের দেশকে দূরের ও কাছের বন্ধু ও শত্র“ নির্বিশেষে বিভিন্ন দেশ লুট করেছে, লুণ্ঠন করেছে, ধর্ষণ করেছে এবং ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, বিদেশি মেথররা আমাদের এক সময়ের সুন্দর আমেরিকান স্বপ্নকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে।
ট্রাম্পের ঘোষণায় ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানের পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ২৯ শতাংশ শুল্ক। চীনা পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে ৩৪ শতাংশ শুল্ক।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ, ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার পণ্যে ৪৪ শতাংশ, তাইওয়ানের পণ্যে ৩২ শতাংশ, জাপানের পণ্যে ২৪ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার পণ্যে ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের পণ্যে ৩৬ শতাংশ, সুইজারল্যান্ডের পণ্যে ৩১ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার পণ্যে ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়ার পণ্যে ২৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার পণ্যে ৪৯ শতাংশ, যুক্তরাজ্যের পণ্যে ১০ শতাংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০ শতাংশ, ব্রাজিলের পণ্যে ১০ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের পণ্যে ১০ শতাংশ, ইসরায়েলের পণ্যে ১৭ শতাংশ, ফিলিপাইনের পণ্যে ১৭ শতাংশ, চিলির পণ্যে ১০ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ, তুরস্কের পণ্যে ১০ শতাংশ, কলম্বিয়ার পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর বাইরে মিয়ানমারের পণ্যে ৪৪ শতাংশ, লাওসের পণ্যে ৪৮ শতাংশ এবং মাদাগাস্কারের পণ্যের ওপর ৪৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম : এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি এক পোস্টে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ শুল্ক পুনর্বিবেচনা করতে কাজ করছে এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনআরবি) শুল্ক যুক্তিসঙ্গত করার জন্য বিকল্পগুলো দ্রুত চিহ্নিত করছে।
শফিকুল আলম তার ফেসবুক পোস্টে আরও লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের একটি ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আমাদের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করি, মার্কিন সরকারের সঙ্গে আমাদের চলমান আলোচনা শুল্ক বৃদ্ধির সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে।’
এদিকে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় রপ্তানি গন্তব্য, বিশেষত তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে। প্রতি বছর প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি হয়, যার মধ্যে পোশাক শিল্পের অংশই সবচেয়ে বড়। তবে, এই নতুন শুল্ক বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এবং অন্যান্য রফতানি পণ্য সংকটে পড়তে পারে, কারণ উচ্চ শুল্ক পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিবে, যা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশও এই শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে। ভারতের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ২০ শতাংশ। বিশেষভাবে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, কারণ এটি দেশটির অর্থনীতির ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে মার্কিন পণ্যে বাংলাদেশের আরোপিত শুল্ক ৭৪ শতাংশ, যা মার্কিন সরকারের জন্য এক ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি সাধনে তারা আলোচনা চালিয়ে যাবে এবং শুল্ক বৃদ্ধির বিষয়টি পুনরায় আলোচনায় আসবে।
এ ছাড়াও, বাংলাদেশের সরকার মনে করে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চলমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা এই সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে, যদিও এখনো এটি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। ফলে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক বৃদ্ধি একটি জটিল বাণিজ্যিক সমস্যা তৈরি করতে পারে, যার জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এই শুল্ক বৃদ্ধি কেবলমাত্র বাংলাদেশের জন্য নয়, অন্যান্য দেশগুলোর জন্যও একটি বড় সমস্যা তৈরি করেছে, তবে বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব বিশেষভাবে স্পষ্ট হতে পারে, কারণ তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত।

্রিন্ট

আরও সংবদ