খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১৩ ফাল্গুন ১৪৩২

দুদকের ২ মামলা

পুলিশ কর্মকর্তা উত্তম দম্পতির ৯ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ, লেনদেন ৭২ কোটি

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৫ এ.এম | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


প্রায় ৯ কোটি টাকার অবৈধ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৭২ কোটি টাকার ‘সন্দেহজনক’ লেনদেনের অভিযোগে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস এবং তার স্ত্রী কৃষ্ণা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মোঃ রুহুল হক বাদী হয়ে এই মামলা দু’টি দায়ের করেন। সংস্থাটির জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তম কুমার বিশ্বাস তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ছেলে-মেয়ের নামে থাকা ২ কোটি ৮১ লাখ ৩৮ হাজার ২২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া নিজ নামে এবং সন্তানদের নামে ৩ কোটি ১ লাখ ৩৪ হাজার ২২৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। উত্তম কুমার বিশ্বাস এবং তার সন্তানদের নামে থাকা মোট ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে সর্বমোট ৪৩ কোটি ৭৩ লাখ ৭৭ হাজার ৯৯৬ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই অর্থ অবৈধভাবে হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে তিনি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন বলে এজাহারে উলে­খ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় তার স্ত্রী কৃষ্ণা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। 
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কৃষ্ণা বিশ্বাসের একার নামেই ৭৫টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। এসব হিসাবে ২৯ কোটি ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৭৯১ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে। এছাড়া দুদকের প্রাথমিক নোটিশ পাওয়ার পর তিনি তড়িঘড়ি করে নিজের দু’টি ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করে ভুয়া কোম্পানির কাগজে বিনিয়োগ দেখিয়ে অর্থের উৎস গোপনের চেষ্টা করেছেন বলে প্রমাণ পেয়েছে দুদক।
আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা; মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা; দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উত্তম কুমার বিশ্বাস বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত এবং তার স্থায়ী ঠিকানা মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানায়।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ