খুলনা | রবিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২১ | ৮ কার্তিক ১৪২৮

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সিলেকশনে অনেকের স্বপ্নভঙ্গ

|
১২:০৯ এ.এম | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা একটি বহু প্রতীক্ষিত বিষয়। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের কৃষি শিক্ষা ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এটি শুরু করেছে। এ বছর সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এরই মধ্যে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন গ্রহণও শেষ হয়েছে। সমজাতীয় এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এতে প্রতিবছর দেশব্যাপী শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে যে যাতায়াত ও অন্যান্য হয়রানির শিকার হন, তা থেকে হয়তো বেঁচে যাচ্ছেন। কিন্তু এই সমন্বিত পরীক্ষায় সিলেকশন পদ্ধতি থাকায় তাঁদের শিক্ষাজীবন কতটুকু বাঁচবে বা বাঁচছে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৯ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছেন। জিপিএ ৫ পেয়েছে এক লাখ ৬১ হাজার, জিপিএ ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে পেয়েছেন চার লাখ ৯৯ হাজার ৭৪০ জন এবং জিপিএ ৩.৫ থেকে ৪-এর মধ্যে পেয়েছেন তিন লাখ চার হাজার ১৪৪ জন। তথ্য অনুসারে, ৯ লাখ ৬৫ হাজার শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভতিরযোগ্যতা অর্জন করবেন। এ বছর জিপিএ ৫ প্রাপ্তদের ৮০ শতাংশই বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। জিপিএ ৫ থেকে ৪-এর মধ্যে কতজন বিজ্ঞান বিভাগের এর কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও যদি ৫০ শতাংশ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হন, সে ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া যায় মোট জিপিএ ৮ নিয়ে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষার্থী এ বছর বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতা করবেন। আবার গত বছরের কিছু শিক্ষার্থীও এবার ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শিক্ষার জন্য এ বছর ৬০ হাজার আসনের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার আসন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য। এর মধ্যে ২৬ হাজার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে, তিন হাজার ২১২টি মেডিক্যালে এবং ডেন্টালে ৫৪৫টি।
এদিকে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় দেশের ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক প্রথম বর্ষে গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট তিন লাখ ৬১ হাজার ৪০৬ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক আবেদন করেছেন। এতে বিজ্ঞান বিভাগে এক লাখ ৯৪ হাজার ৮৪১ জন আবেদন করলেও প্রাথমিক বাছাইয়ের পর এক লাখ ৩১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত আবেদন করতে পারবেন, যা বিজ্ঞান বিভাগে আবেদনকৃত শিক্ষার্থীর প্রায় ৬৭ শতাংশ। প্রাথমিক বাছাইয়ে যোগ্যতা থাকার পরও প্রায় ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেওয়ারই সুযোগ পাচ্ছেন না। অবশ্য মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগে সবাই পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছেন এ বছর।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের জিপিএ’র ভিত্তিতে আবেদনের সুযোগ দিয়ে এবং বিশেষ বিষয়ের নম্বরের ওপর ভিত্তি করে প্রার্থী বাছাই (সিলেকশন) দ্বৈত নীতির নামান্তর। দেখা যায়, যাঁরা এক পরীক্ষায় সিলেকশন পান, তাঁরাই সব পরীক্ষায় সুযোগ পান। অন্যরা বেশির ভাগ জায়গায় পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
কৃষি ও প্রকৌশল ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো (কয়েকটি বাদে) যদি গুচ্ছ পদ্ধতিতে আসার আগে আবেদনকৃত যোগ্য সব শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে, তাহলে এই সাত বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিতভাবে কেন পারবে নাএ প্রশ্ন থেকেই যায়। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে যদি ভর্তীচ্ছু সব প্রার্থীর জন্য ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে পারে, তাহলে তারা কেন পারবে না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ