খুলনা | শুক্রবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু ১০ মার্চ হতদরিদ্ররা যেন বঞ্চিত না হয়

|
১২:১৬ এ.এম | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম প্রতিশ্র“তি ছিল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুর্দশা লাঘবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচি। দলটির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় সেই প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে, যা জনমনে আশা সঞ্চার করেছে।
আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম দফায় ১৪টি উপজেলায় একটি করে ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা এই কার্ড পাবেন। কার্ডধারীদের প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এই কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে।
অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এসব কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম হয়ে থাকে। হতদরিদ্রদের চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়ধারীরা সুবিধা গ্রহণের দৌড়ে এগিয়ে থাকেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বাছাই প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমরাও চাই, মন্ত্রীর এই আশ্বাসবাণীর যথাযথ বাস্তবায়ন হোক। অদূর ভবিষ্যতে এক কার্ডেই মিলবে রাষ্ট্রীয় সব সুবিধা। মূলত উন্নত দেশের আদলে প্রতিটি নাগরিকের হাতে ‘সামাজিক পরিচিতি কার্ড’ বা ‘সোশ্যাল আইডি কার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
এখনকার ফ্যামিলি কার্ড পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল আইডি কার্ডে রূপ নেবে। টিসিবি, ওএমএস কার্ডসহ অন্যান্য সুবিধা মিলবে সোশ্যাল আইডি কার্ডের মাধ্যমেই। চলতি বছরেই দুই কোটি পরিবারে কার্ড বিতরণের কথা ভাবছে সরকার। শুধু দরিদ্রদের জন্য নয়, বরং ২০৩০ সালের মধ্যে সব নাগরিকের জন্য পরিচিতিমূলক কার্ড বাধ্যতামূলক করা হবে। 
সরকার বলছে, সোশ্যাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে নগদ আর্থিক সহায়তা, স্বাস্থ্য বীমা, শিক্ষা উপবৃত্তি, কৃষি ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা ও পেনশন সুবিধাও পাওয়া যাবে। 
একজন নাগরিকের জীবনের প্রতি পর্যায়ের তথ্য এতে ধারাবাহিকভাবে যুক্ত হতে থাকবে। একজন শিক্ষার্থী যখন পড়াশোনা শেষ করবে, তখন তথ্য হালগানাগাদ হবে। আবার চাকরি থেকে অবসরে গেলে বা বয়স ৬৫ বছর হলেও তাঁকে প্রবীণ নাগরিকের সুবিধা প্রদান করা হবে। 
আমাদের প্রত্যাশা, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে, কোনো হতদরিদ্র যেন বঞ্চিত না হয়। সমাজের একেবারে নিচের তলার বাসিন্দারা সরকারের সহায়তা পাবে, তাদের মুখে হাসি ফুটবে এটাই কাম্য।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ