খুলনা | শুক্রবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

খুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ডামাডোল

কেন্দ্রের নির্দেশনার অপেক্ষায় বিএনপি ঘর গোছানোয় অনেক এগিয়ে জামায়াত

এন আই রকি |
০১:৩০ এ.এম | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


খুলনাসহ দেশের ছয়টি সিটি কর্পোরেশনে স্থানীয় সরকার, পল্ল¬ী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনে (কেসিসি) প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি, খুলনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং খুলনার সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গত ফেব্র“য়ারি এই নিয়োগ দেওয়ার দিন খুলনায় জামায়াত ইসলামের পক্ষ থেকে মেয়র প্রার্থীদের জন্য দলীয় ফোরামে মতামত নেওয়া হয়েছে। সেখানে আলোচনা এসেছে মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান এবং মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম। যদিও জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিষয়টি এখনও ঘোষণা করা হয়নি। 
গেল ১২ ফেব্র“য়ারি সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু পরাজিত হওয়ার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেন। আগামী কেসিসির নির্বাচনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুই বিএনপি’র প্রার্থী হচ্ছেন এটা অনেকটা পরিষ্কার। তবে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার আগে খুলনায় প্রায় হাফ ডজন প্রার্থী মেয়র প্রার্থী হিসেবে দাবিদার ছিলেন। 
খুলনা মহানগরীতে আগামীর মেয়র প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত হলেও কাউন্সিলর প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কেসিসির ৩১টি ওয়ার্ডের বিএনপি’র পদধারী নেতা, থানা বিএনপি’র নেতা, মহানগরের নেতা, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সাবেক কাউন্সিলরসহ অনেকেই বিএনপির দলীয় মনোনয়নে আগামীতে কেসিসির কাউন্সিলর নির্বাচন করতে আগ্রহী। ইতিমধ্যে অনেক প্রার্থী কাজ শুরু করেছেন। তারা রমজানের শুরুতে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, গরীব-অসহায়দের সহযোগিতা করাসহ নানান কাজের মধ্যে জনপ্রতিনিধি হওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন। এদিকে জেলার ৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী, ৬৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং দাকোপ ও পাইকগাছার দু’টি পৌরসভাতে বিএনপি’র একাধিক প্রার্থীদের আগ্রহ দেখা গিয়েছে। 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নগর ও জেলায় প্রার্থীদের তালিকা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি। কেন্দ্রীয় বিএনপি’র অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। এদিকে জামায়াত ইসলাম বিএনপির তুলনায় অনেকখানী এগিয়ে গেছে। নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডে জামায়াত ইসলামী এককভাবে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া কয়রা উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীও ঘোষণা করেছে। 
স্থানীয় ভাবে জানা যায়, ডুমুরিয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিএনপি’র কাছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন এড. মুনিমুর রহমান নয়ন, পাইকগাছা উপজেলায় এস এম এনামুল হক, দাকোপ উপজেলায় মোঃ মোজাফফার হোসেন, কয়রা উপজেলায় এড. মোমরেজুল ইসলাম, নুরুল আমিন বাবুল, ফুলতলা উপজেলায় সাব্বির হোসেন রানা, বটিয়াঘাটা উপজেলায় এজাজুর রহমান শামীম, খাইরুল ইসলাম জনি। এদিকে জামায়াতের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কয়রা উপজেলায় আলোচনায় রয়েছে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এড. মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমীর  মাওলানা মিজানুর রহমান। 
এ বিষয়ে জামায়াত ইসলামের মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম  বলেন, এখন অবদি নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৬টি ওয়ার্ডে আমাদের কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করেছি। মেয়রসহ অন্যান্য কাউন্সিলর প্রার্থীর তালিকা পেতে দুই সপ্তাহ লাগবে। গত সোমবার মেয়র প্রার্থীদের বিষয়ে দলীয় ফোরামে মতামত নেওয়া হয়েছে। 
নগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন  জানান,  খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত এখনও আমাকে কেন্দ্র থেকে জানায়নি। যার কারণে আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না এটা বলতে পারছি না। 
জেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, ৯টি উপজেলায় ৬৮টি ইউনিয়ন, দুইটি পৌরসভা রয়েছে। এখনও দলীয় কোন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিএনপি যেহেতু বড় দল, অনেকেই দলের মনোনয়ন চাইবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত আছি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ