খুলনা | রবিবার | ০১ মার্চ ২০২৬ | ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

অস্তিত্ব সংকটে বেসরকারি খাত বিনিয়োগের পরিবেশ প্রয়োজন

|
১২:৩৩ এ.এম | ০১ মার্চ ২০২৬


দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি বেসরকারি খাত। কিন্তু একের পর এক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে করতে সেই চালিকাশক্তিই আজ ক্রমেই অচল হয়ে পড়ছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গতি হারাচ্ছে দেশের অর্থনীতি। উচ্চ সুদহার, বিনিয়োগে স্থবিরতা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি, বড় রাজস্ব ঘাটতি, বেকারত্ব, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, অদক্ষ এডিপি বাস্তবায়ন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির হতাশাজনক অবস্থা। এসব কারণে অনেকে দেশের অর্থনীতিকে ‘মুমূর্ষু’ রোগীর সঙ্গে তুলনা করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং স্থবির অর্থনীতিকে টেনে তুলতে নতুন সরকারের নীতির দিকে তাকিয়ে আছেন উদ্যোক্তারা।
দেশের জিডিপিতে বেসরকারি খাতের অবদান ৭৮ থেকে ৮৬ শতাংশ। আর কর্মসংস্থানের প্রায় ৯৫ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। তাই বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।অথচ বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র  ৬.১ শতাংশে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। উচ্চ সুদহারের (১৬-১৭ শতাংশ) কারণে ঋণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
উদ্যোক্তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে অর্থনীতিতে যে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা বা সেই অর্থনীতিকে আবার চাঙ্গা করা নতুন রাজনৈতিক সরকারের জন্য অনেক বড় এক চ্যালেঞ্জ। রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ (৩৫.৭৩ শতাংশ), বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং ব্যাংক খাতে আস্থার সংকট পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২২.৪৮ শতাংশে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। 
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সক্ষমতা হারানোর কারণগুলো স্পষ্ট ও বহুমুখী। প্রথমত, উচ্চ সুদহার (১৬-১৭ শতাংশ) ঋণ গ্রহণকে অসম্ভব করে তুলেছে। ফলে তাঁরা নতুন যন্ত্রপাতি কিনতে বা উৎপাদন স¤প্রসারণ করতে পারছেন না। আইএমএফের প্রতিবেদন অনুসারে, বর্তমান অস্থিরতায় বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৬১.৫৩ শতাংশ কমেছে। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাত এখন ধুঁকছে অথবা বলা যায়, কোনো রকমে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে। 
নতুন সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আহŸান জানিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। দেশের অন্যতম পাবলিক-প্রাইভেট ডায়ালগ প্ল্যাটফর্ম ‘বিল্ড’ মনে করে, নতুন সরকারের এক নম্বর অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, টেকসই বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় এবং ব্যাংকিং তারল্য উন্নয়ন ছাড়া আস্থা ফিরবে না। বিল্ড বলছে, ‘কস্ট অব ডুইং বিজনেস’ কমাতে না পারলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন।
অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের দৈন্যদশায় যে কাজগুলো অবিলম্বে করা উচিত, তা হলো ব্যাংকঋণের সুদহার কমিয়ে এনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি, ডলারের বিনিময় হার সামান্য কিছু কমিয়ে মূলধনী যন্ত্রপাতি আর শিল্পের কাঁচামাল আমদানি সহজীকরণ এবং শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দেওয়া।
আমরা আশা করি, নির্বাচিত সরকার দেশের স্বার্থে ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টিতে ব্যাপক পদক্ষেপ নেবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ