খুলনা | রবিবার | ০১ মার্চ ২০২৬ | ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

অগ্নি ঝরা মার্চ

মাওলা বক্স |
০১:৪৮ এ.এম | ০১ মার্চ ২০২৬


আজ ১৯৭১ সালের ১ মার্চ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনার মাস। বিশ্বকাঁপানো গৌরবগাঁথার এক একটি দিন বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক একটি হীরক খন্ড। 
মার্চের এই দিনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান এক বেতার ভাষণে ৩ মার্চের গণপরিষদের সাধারণ অধিবেশ স্থগিত ঘোষণা করলে পূর্ব বাংলার ছাত্র সমাজ প্রথম শ্লোগান  তোলে, “বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর”। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের দাবির মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ ও ৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতাল এবং ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভার ঘোষণা দেন। 
এদিন আন্তর্জাতিক একাদশ ও বিসিসিপি একাদশের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচ পন্ড হয়ে যায় ইয়াহিয়ার ঘোষণার পরপরই। ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকায় নামে মিছিলের ঢল। একই কাহিনী ঘটে দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও। সিলেট মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ক্লাস বাদ দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। খুলনা শহীদ মিনার এবং যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হয় প্রতিবাদী জনতা। 
ঢাকা হাইকোর্ট বার এসোসিয়েশন থেকে মিছিল বের করে আইনজীবীরা। তারা বায়তুল মোকাররমে সভা করে ইয়াহিয়ার ঘোষণার প্রতিবাদ জানায়। ইয়াহিয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছিলো মুসলিম লিগের একাংশের প্রধান খান আবদুল কাইয়ুম। তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে দল থেকে পদত্যাগ করেন সাধারণ সম্পাদক খান এ সবুর। তিনি দলের সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি নেন।
পশ্চিম পাকিস্তানি শাষক-শোষক গোষ্ঠীর নাগপাশ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে দুইযুগের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনের হাত ধরে এই মার্চেই ঘোষিত হয়েছিল বাঙালি মুক্তি সনদের অমর কাব্য, “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”। 
এই মার্চ মাসেই পাক হানাদার বাহিনী বিশ্ব ইতিহাসের ঘৃণ্যতম গণহত্যা শুরু করলে মুহূর্তেই গর্জে উঠে বাঙালি, ঝাঁপিয়ে পড়ে সশস্ত্র প্রতিরোধে। 
জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেন স্বাধীনতা। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্বর মানচিত্রে জন্ম নেয় নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ