খুলনা | সোমবার | ০২ মার্চ ২০২৬ | ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

শীর্ষ সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শিগগিরই এ্যাকশন

পুলিশ হত্যার তদন্ত নিয়ে বক্তব্য দেইনি, সিদ্ধান্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশের আলোকে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৫ এ.এম | ০২ মার্চ ২০২৬


পুলিশ হত্যার তদন্ত প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি। সুরক্ষা অধ্যাদেশের আলোকে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ হত্যার বিচার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে পূর্বে কোনো বক্তব্য দেইনি। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, অন্তর্র্বতী সরকার সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি করেছে। এর ভিত্তি ছিল জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামার একটি দফা। ওই দফায় আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম-জুলাই ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন ও অংশ নিয়েছেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে। বিষয়টিকে আইনি ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার অঙ্গীকারও করা হয়েছে। সেই আলোকেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
মাঠের সেনাবাহিনী কবে সেনানিবাসে ফিরবে-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের পর ১৫ দিন পর্যন্ত মাঠে থাকার একটি নির্দেশনা ছিল, যা শেষ হয়েছে। তবে সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। এই মেয়াদ কবে শেষ হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেনাবাহিনীও দীর্ঘদিন মাঠে থাকতে চায় না। তবে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন বিষয়টি সমন্বিতভাবে দেখা হবে এবং একসময় সেনাবাহিনীকে অবশ্যই মাঠ থেকে প্রত্যাহার করা হবে।’
ফায়ার সার্ভিসের সেবা স¤প্রসারণ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বেশ কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকা, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় অবকাঠামো ও জনবল বাড়িয়ে সেবা স্থায়ী ও জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেখানে সেবা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।’
এ ছাড়া কোনো উপজেলায় যেন ফায়ার সার্ভিসের অন্তত একটি ইউনিট থাকে, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিসের কোনো সেবা কেন্দ্র নেই বলে জানা গেছে। এসব এলাকায় নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ‘২৫০ জন ফায়ার ফাইটার নিয়োগ দেওয়া হবে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত রাখা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। নিয়োগ নিয়ে যাতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ না ওঠে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তারা অতি শিগগিরই যেন আইনের আওতায় আসে সে ব্যবস্থা আমরা খুব দ্রুত নেব। আমাদের পরিকল্পনা এখানে ফাঁস করতে চাই না। কোনো কিছু বাদ থাকবে না, এদেরকে আইনের আওতায় আনবোই। এ বিষয়ে আমার অত্যন্ত কঠোর।
চট্টগ্রামে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সন্ত্রাসী গ্র“প দুই মাস আগেও একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা এবং বাসায় পুলিশ প্রহরী দিয়েছে। সে সন্ত্রাসী গ্র“প হয়তো সুবিধা পায়নি সেজন্য দু’মাস পরে আবার একই রকমের কর্মকাণ্ড করেছে। এ সময় তারা হেভি উইপেন্স (ভারী অস্ত্র) দিয়ে গোলাগুলি করেছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের গোলাগুলির ঘটনায় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
বিএনপি দলের নামের চাঁদাবাজির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের সোপর্দ করেন। কিন্তু কোনো অভিযোগ ঢালাওভাবে করলে তার জবাব দেওয়া যায় না।
আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে স্থিতিশীলতা আসে, মানুষের মনে শান্তি এবং নিশ্চয়তা আসে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ