খুলনা | সোমবার | ০২ মার্চ ২০২৬ | ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২

অগ্নিঝরা মার্চ

মাওলা বকস্ |
০২:০৪ এ.এম | ০২ মার্চ ২০২৬


আজ ২ মার্চ। ১৯৭১ এর এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় উত্তোলন করা হয়েছিল বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা। আরো একধাপ এগিয়ে যায় স্বাধীনতা আন্দোলন। সশস্ত্র সংগ্রামের পথ ধরে পরবর্তীতে স্বাধীনতার স্বাদ পায় বাঙ্গালী জাতি। তবে, স্বাধীনতা অর্থবহ করতে দুর্নীতি, বঞ্চনা, শোষণ ও সা¤প্রদায়িকতামুক্ত দেশ গড়ার আহŸান জানিয়েছেন, সেদিনকার পতাকা উত্তোলনকারী ছাত্রনেতা আ স ম আব্দুর রব ও নুরে আলম সিদ্দিকী। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে একাত্তরের ২ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে পাস করা হয় স্বাধীনতার প্রস্তাব। প্রস্তুতি শুরু হয় সশস্ত্র সংগ্রামের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রলীগের জনসভায় উপস্থিত হন লাখো ছাত্র জনতা। উত্তোলন করা হয় স্বাধীনতার পতাকা। ঢাকার নিউ মার্কেটে এ্যাপোলো ক্লথ স্টোরের কর্ণধার কাঙ্খিত পতাকা তৈরী করে দেন বিনা পারিশ্রমিকে। সেই পতাকা সভামঞ্চে নিয়ে আসেন ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতা জাহিদ। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের তৎকালীন ভিপি আ স ম আব্দুর রবসহ অন্যান্য নেতারা পতাকাটি তুলে ধরলে সৃষ্টি হয় অভূতপূর্ব দৃশ্যের। যে উদ্দেশ্যে পতাকা তুলেছিলেন তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলেও মনে করেন স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী তখনকার ছাত্র নেতারা। সেদিনের পতাকা উত্তোলন এগিয়ে নেয় স্বাধীনতা সংগ্রাম, তারই ফসল স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আর অনন্তকাল পতপত করে উড়বে স্বাধীন দেশের লাল-সবুজের পতাকা।
তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের শাসন-পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের কাছে অযৌক্তিক ও অকার্যকর হয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে দেশ কার্যত ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ায় ১৯৭১ সালের ১ মার্চ থেকে খুলনা শহর আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়।
খুলনায় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা পেয়ে তারা খুলনা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ (সিএসপি) গঠনের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। শহীদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত এক সভায় ছাত্রলীগ নেতা স ম বাবর আলীকে আহবায়ক এবং হুমায়ুন কবির বালুকে যুগ্ম-আহবায়ক করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এতে সদস্য ছিলেন শেখ আবদুল কাইয়ুম, হায়দার গাজী, সালাহউদ্দিন রুনু, হেকমত আলী ভূঁইয়া, আবুল কাশেম, সিরাজুল হক ফকির ও মাহবুব আলম হারুন। তৎকালীন সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতারা এই কমিটিকে খুলনায় পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতেন। অসহযোগ আন্দোলনে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এ কমসূচিতে যোগদান করলে আন্দোলন পূর্ণতা লাভ করে। এ অঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি কলকারখানা এবং চিংড়ি খামারসহ অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানেও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের হাজার হাজার লোক অংশ নেয়।
এদিকে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী হরতাল, অবরোধ, সমাবেশ ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠন এর সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। খালিশপুর-দৌলতপুর এলাকার শ্রমিকরা এসব কর্মসূচি পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খুলনা বেতার ও সাপ্তাহিক দেশের ডাক এ সময় জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ

আঞ্চলিক

প্রায় ৩ ঘণ্টা আগে