খুলনা | মঙ্গলবার | ০৩ মার্চ ২০২৬ | ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ হোক

|
১২:১৫ এ.এম | ০৩ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধ। বিনা উস্কানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে অতর্কিত হামলা চালায়। মুহুর্মুহু বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জ্বলতে থাকে ইরানের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো। হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল­াহ আলী খামেনিসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও সেনা অধিনায়ক।
প্রাথমিক ধাক্কা সামলে উঠে ইরানও পাল্টা জবাব দেয়। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানে ইরানি বাহিনী। প্রাথমিকভাবে উভয় পক্ষে বড় ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে, কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এ ধরণের হামলা, হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গর্হিত কাজ।
এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্লেষকমহল। খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বিমান পরিবহনের জন্য কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ। চলমান সংকট সমাধানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স¤প্রতি দফায় দফায় বৈঠক চলছিল।
কিন্তু কূটনৈতিক পথ পরিহার করে ইরানজুড়ে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলায় ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, বিপ্লবী গার্ডের কমান্ডারসহ অন্তত ৪০ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। হামলার টার্গেট থেকে বাদ যায়নি মেয়েদের স্কুলও। একটি স্কুলেই ১৪৮ জন নিহত হয়েছে। এ পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে সাত শতাধিক।
জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরু করেছে। তেল সরবরাহের অন্যতম পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার অভিঘাত শিগগিরই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকায় জরুরি বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাঁরা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং পরিস্থিতি শান্ত না হলে বাংলাদেশিদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা গ্রহণের পর বিশ্বব্যাপী ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে গত বছর জুন মাসে ইরানে হামলা করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময়ও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় শক্তিশালী বোমা নিক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। 
হরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ‘ট্রাম্প তাঁর বড় জুয়াটি খেললেন।’ ওই বিশ্লেষণে আরো বলা হয়, এই যুদ্ধের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। কংগ্রেস বা মার্কিন জনগণের সামান্যতম সম্মতি ছাড়াই ট্রাম্প এই হামলা শুরু করেছেন। বিশ্বনেতারাও ট্রাম্পের এই যুদ্ধোন্মাদনার নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁরা সবপক্ষকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহŸান জানিয়েছেন।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলছে। এদিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান নতুন করে সংঘাতে জড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধের ভার বিশ্ব নিতে পারবে না। আমরা চাই, অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা হোক।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ