খুলনা | মঙ্গলবার | ০৩ মার্চ ২০২৬ | ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

খেলাপি ঋণ গোপন করায় দুই ব্যাংককে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪০ এ.এম | ০৩ মার্চ ২০২৬


ঋণ ও বিনিয়োগের প্রকৃত শ্রেণিমান যথাযথভাবে রিপোর্ট না করায় বেসরকারি ব্যাংক-ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনিয়মে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি), মনিটরিং এ্যান্ড সুপারভিশন সেকশন থেকে ২৪ ও ২৫ ফেব্র“য়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা পৃথক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ‘গ্রাহক প্রতিষ্ঠান কেএনবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের তিনটি হায়ার-পারচেজ আন্ডার শিরকাতুল মিলক, ১৮টি বাই মুরাবাহা টিআর এবং ২৪টি মুরাবাহা পোস্ট ইমপোর্ট বিনিয়োগ ৩১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত খেলাপি হিসেবে রিপোর্ট না করে অশ্রেণীকৃত দেখানো হয়েছে। এছাড়া তিনটি নন-ফান্ডেড লেটার অব ক্রেডিট যথাক্রমে পাঁচ বছর ছয় মাস, দুই বছর নয় মাস এবং পাঁচ বছর এক মাস পর টার্মিনেট করা হয়। পুনঃতফসিলকৃত ৪৪টি বিনিয়োগ পুনঃতফসিলের পর মেয়াদি বিনিয়োগ হিসাবে রিপোর্ট না করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব অনিয়মকে গুরুতর বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককে সাত দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ মতিঝিল কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত ব্যাংকটির চলতি হিসাব থেকে তা সমন্বয় করে আদায় করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ১ এপ্রিলের মধ্যে সিআইবিকে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাফাত উল­াহ খান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে ভুলবশত এ ধরনের সমস্যা হতেই পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
অন্যদিকে একই ধরনের অনিয়ম ওয়ান ব্যাংকেও সংঘটিত হয়। গ্রাহক প্রতিষ্ঠান টেকনো ড্রাগস লিমিটেডের একটি ডিমান্ড লোন প্রায় ১৪ মাস পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেইজে রিপোর্ট করে ব্যাংকটি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির দু’টি মেয়াদি ঋণ, দু’টি পুনঃতফসিলকৃত ঋণ, নয়টি ডিমান্ড লোন এবং একটি ওভারড্রাফট ঋণ প্রকৃত শ্রেণিমানে দেখানো হয়নি। প্রায় চার মাস ধরে এসব ঋণ অশ্রেণীকৃত হিসাবে রিপোর্ট করা হয়। অর্থাৎ তথ্য গোপন করে খেলাপি দেখানো হয়নি। বিষয়টি গুরুতর অনিয়ম হিসাবে বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যাংকটির বিরুদ্ধে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৫ মার্চের মধ্যে মতিঝিল কার্যালয়ে চেক বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত ওয়ান ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে সমন্বয় করে আদায় করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে সিআইবিকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মুহিত রহমানকে একাধিকবার মুঠোফোনে চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র : যুগান্তর

প্রিন্ট

আরও সংবাদ