খুলনা | মঙ্গলবার | ০৩ মার্চ ২০২৬ | ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

ঝিনাইদহে ৩২ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভুয়া নিয়োগ ও জাল সনদে চাকরি

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি |
০২:০৫ এ.এম | ০৩ মার্চ ২০২৬


ঝিনাইদহে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাল সনদ ও জাল নিবন্ধনে চাকরি করার এক নজিরবিহীন চিত্র উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) এক তদন্ত প্রতিবেদনে। সারা দেশে ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার ওপর পরিচালিত এই বিশেষ তদন্তে ঝিনাইদহের ২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভুয়া নিয়োগ, অন্যের জমি দখল করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি এবং জাল সনদ দিয়ে চাকরি করার তথ্য মিলেছে। এছাড়া আগেই ঝিনাইদহের ১০টি স্কুলে জাল সনদধারী শিক্ষককে ৩৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৩ টাকা ফেরত দিতে বলা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের তদন্তে উঠে আসা দুর্নীতির কারণে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও অভিযুক্তদের এবার বিপুল অঙ্কের আর্থিক দণ্ড ও জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। ফেরত দিতে হবে অর্থ। কেবল অর্থই নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমিও পুনরুদ্ধারের তাগিদ দিয়েছে অধিদফতর।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ আমলে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার ডিগ্রী কলেজ, কে,ডি,এইচ,বি,ইউ দাখিল মাদ্রাসা, ইশ্বরবা দাখিল মাদ্রাসা, আলহাজ্ব আমজাদ আলী ও ফাইজুর রহমান মহিলা কলেজ, দামোদর কারামতিয়া দাখিল মাদ্রাসা, সুন্দরপুর দাখিল মাদ্রাসা, কোটচাঁদপুরের বিসিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মহেশপুরের কালুহাটী দাখিল মাদ্রাসাম, গৌরিনাথপুর দাখিল মাদ্রাসা, ঘোড়াশাল হামিদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, বিদ্যাধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বৈচিতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সামন্তা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শৈলকুপার কামান্না বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পাঁচপাখিয়া সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার আমেনা খাতুন কলেজ, জিয়ালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দোহাকুলা দাখিল মাদ্রাসা, নুরনগর সিদ্দিকীয় আলিম মাদ্রাসা, হরিশংকরপুর জগৎচন্দ্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হলিধানী আলিম মাদ্রাসায় ভুয়া নিয়োগ, অন্যের জমি দখল করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি এবং জাল সনদ দিয়ে চাকরি করার তথ্য মিলেছে।  
জানা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা পর্ষদের যোগসাজশে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ভ্যাট ও আইটি (আয়কর) ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর আর্থিক অনিয়মও তদন্তে ধরা পড়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপিগুলো ইতোমধ্যে ডি-নথি ও ই-মেইলের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দফতরে পাঠানো হয়েছে।
আরো জানা যায়, জেলার বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল সনদে চাকরি করা ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) চাকরিচ্যুতি, অর্থ ফেরত, অবসর সুবিধা, কল্যাণ ট্রাস্ট বাতিল, ফৌজদারি মামলা এবং নিয়োগে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মাউশির চিহ্নিত জাল সনদধারী ভুয়া শিক্ষকরা হলেন, হরিণাকুন্ডু পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক (শরীর চর্চা) মঈন উদ্দিন, ঝিনাইদহ শিশুকুঞ্জ ফুল এন্ড কলেজ সহকারি শিক্ষক (হিন্দু ধর্ম) তপন কুমার বিশ্বাস। ডেফলবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (শরীরচর্চা) জাহিদুল ইসলাম, বংকিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (কৃষি) মামুন অর রশিদ, কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা ভুষণ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (সমাজ) হাজেরা খাতুন, কোটচাঁদপুর উপজেলার বহরমপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (ইসলাম ধর্ম) ড. মাহফুজা খানম, একই স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক শামীমা আক্তার, সদর উপজেলার বাসুদেবপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুর রহমান, লালন একাডেমী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (কম্পিউটার) রাজিয়া খাতুন ও মহেশপুর উপজেলার গুড়দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক (কম্পিউটার) মোস্তাফিজুর রহমান।
ঝিনাইদহ জেলা শিক্ষা অফিসার লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের (ডিআইএ) তদন্ত প্রতিবেদনটি আমার দপ্তরে এখনো আসেনি, তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছি। ডিআইএ’র তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসলে এ্যাকশান শুরু হবে। তিনি বলেন, জাল সনদে চাকরি করা ১০ জন শিক্ষক উচ্চ আদালতে মামলা করায় তাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের বিষয়টি ঝুলে আছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ