খুলনা | সোমবার | ০৯ মার্চ ২০২৬ | ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ওমান উপসাগরে ইরানের সব যুদ্ধজাহাজ ধংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

খবর প্রতিবেদন |
০২:১৮ পি.এম | ০৩ মার্চ ২০২৬

 

ওমান উপসাগরে ইরানের নৌবাহিনীর ১১টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা কমান্ড (সেন্টকোম) দাবি করেছে, সবগুলো জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি পোস্টে সেন্টকোম জানিয়েছে, “দু’দিন আগেও ওমান উপসাগরে ইরানের ১১টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছিল। গতকাল সোমবার সবগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখন ওমান উপসাগরে কোনো ইরানি যুদ্ধজাহাজ নেই।”

সেন্টকোমের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, “গত কয়েক দশক ধরে ওমান উপসাগরে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোতে হামলা এবং হয়রানি করে আসছিল ইরান। এসব দিন শেষ হয়েছে। আর ফিরে আসবে না।”

এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক আধিপত্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রেখেছে। সেন্টকোমের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবাধ চলাচল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথে ইরানের এমন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ ছিল।

ওমান উপসাগর মধ্যপ্রাচ্য এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলসীমা। এখানে তেলের পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রয়েছে। ইরানি যুদ্ধজাহাজগুলোর টহলের ফলে এই জলসীমায় নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ঝুঁকিতে পড়েছে।

সেন্টকোম জানিয়েছে, ইরানের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে নানা ধরনের হামলা এবং জাহাজে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করে আসছিল। তাদের দাবির মর্ম হলো, এসব কর্মকাণ্ড এবার শেষ হয়েছে এবং আর কোনো ধরনের ন্যাশনাল বা আন্তর্জাতিক নৌযান হুমকির সম্মুখীন হবে না।

এর আগে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের মধ্যে, উপসাগরে এবং পারস্য উপসাগরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের পর, যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ওমান উপসাগরের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথ সুরক্ষিত করা এক জরুরি বিষয়। তারা আশা করছে, এই পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা আর হবে না এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

আনাদোলু এজেন্সির বরাতে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ইরানের নৌবাহিনী ও আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপত্তা নীতিমালাকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজের আধিপত্য এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতে জোর দিচ্ছে।

উপসংহারে, সেন্টকোমের দাবির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, ওমান উপসাগরে ইরানি যুদ্ধজাহাজের কার্যক্রমের শেষ এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ এখন কেন্দ্রীয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ