খুলনা | বুধবার | ০৪ মার্চ ২০২৬ | ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ঝুঁকি বাড়ছে প্রবাসীদের নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার দিন

|
১২:০৮ এ.এম | ০৪ মার্চ ২০২৬


ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক। আধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রভিত্তিক এই যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ যেমন বিস্তৃত, আবার ঝুঁকির মাত্রাটাও অনেক বেশি। ইরানে শিক্ষার্থীসহ কয়েকশ’ বাংলাদেশি রয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ৫০ লাখের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি কাজ করেন। গতকাল সোমবার পর্যন্ত দু’জন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারকে অবশ্যই প্রবাসীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই শনিবার ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল­াহ আলী খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও সেনা নেতৃত্ব নিহত হন। এরপর দফায় দফায় তারা ইরানে হামলা চালায়। ইরান পাল্টা হামলা হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। এই হামলায় মার্কিন সেনা ও ইসরায়েলি নাগরিকদের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নাগরিকদের হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গত বছরের জুন মাসে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম দফা সংঘাতের তুলনায় এ দফার সংঘাতের ব্যাপকতা ও মাত্রিকতা যে আরও অনেক বেশি, তা প্রথম তিন দিনেই স্পষ্ট হয়ে গেছে। সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ইরান হামলা চালিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সের চলমান সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফলে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলো এবং বড় শক্তিগুলো যদি উত্তেজনা প্রশমন ও সংঘাত বন্ধে জরুরি উদ্যোগ না নেয়, তাহলে বিশ্ব আরও বড় বিপর্যয়কর যুদ্ধের মধ্যে ঢুকে পড়তে পারে। চলমান সংঘাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। ইরানে ৩০০ শিক্ষার্থীসহ কয়েকশ’ বাংলাদেশি অবস্থান করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাঁরা সবাই নিরাপদে আছেন। তবে তাঁদের যাতে নিরাপদে সরিয়ে আনা যায়, সে জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।
এবারের সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আক্রান্ত হওয়ায় বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রাটা অনেক বেড়ে গেছে। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় যে তিনজন নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিক সালেহ আহমেদ রয়েছেন। বাহরাইনে আবুল মহসিন নামের আরেক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যাতে ঝুঁকিপূর্ণ ও সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলো এড়িয়ে চলে, দূতাবাসগুলোকে নিয়মিত সেই পরামর্শ দিতে হবে। আহত ব্যক্তিরা যাতে সুচিকিৎসা পান, সেই ব্যবস্থাও নিতে হবে। সর্বোপরি দূতাবাসগুলোকে বাংলাদেশের নাগরিকদের পাশে জোরালোভাবে দাঁড়াতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত পরিস্থিতির কারণে তিন দিনে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রায় ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকেও বাংলাদেশে আসতে পারেননি কেউ। সব মিলিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় তাঁদের অনেকেরই বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার স্বপ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর মধ্যে কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে। আমরা মনে করি, ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় বিদেশগামীরা যাতে কোনো সংকটে না পড়েন, তার জন্য সরকারকে আরও জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতাও চালানো প্রয়োজন। দেশে ও মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দরগুলোতে আটকে পড়া যাত্রীদের দেখভালে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মাত্রা, ব্যাপকতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়েই সরকারকে সব ধরণের প্রস্তুতি নিতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ