খুলনা | বুধবার | ০৪ মার্চ ২০২৬ | ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

বিপাকে গ্রাহকরা, পকেট কাটছে ব্যবসায়ীরা #১৩৪১ টাকার গ্যাস এখনও সাড়ে পনেরশ’

সরকার এলপি গ্যাসের মূল্য বেঁধে দিলেও মানছে না ডিপো মালিকরা

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:২৫ এ.এম | ০৪ মার্চ ২০২৬


গ্রাহকদের সাশ্রয়ের দিক বিবেচনা করে সরকার এলপি গ্যাসের মূল্য বেঁধে দিলেও কোনো ভাবে মানছেনা বেসরকারি ডিপো মালিকরা। গত ফেব্র“য়ারি মাসে সরকার ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য ১৩৪১ টাকা নির্ধারণ করলেও নির্দেশনা মানেনিনা কারখানা (ডিপো) মালিকরা।আর চলতি মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষনা  এলেও তার ন্যূনতম প্রভাব পড়েনি বাজারে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাষ্য বেসরকারি কোম্পানিগুলো এলপি গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সরকারি নিদর্শনা মানছে না কোম্পানি মালিকরা। দুই মাস ধরে কোম্পানি মালিকরা সরকারের বেধে দেওয়া মূল্যের ধারে কাছেও নেই। বিধায় কোম্পানি মালিদের কাছ থেকে ডিলাররা বেশি দামে খরিদ করে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভোক্তাপর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত ২ ফেব্র“য়ারি এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফেব্র“য়ারির মত মার্চেও ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা রেখেছে সরকার। মাসভিত্তিক দাম নির্ধারণের অংশ হিসেবে গত ২ ফেব্র“য়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। ভ্যাট কমানোর পর গত ২৩ ফেব্র“য়ারি সেটি কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তার আগের মাস জানুয়ারিতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্র“য়ারিতে ১২ কেজিতে দাম বাড়ে ৫০ টাকা। অর্থাৎ, ফেব্র“য়ারিতে ৫০ টাকা দাম বাড়ানোর পর ১৫ টাকা কমানো হয়েছিল। তবে মার্চে দাম অপরিবর্তিত রাখলো বিইআরসি।
চলতি মাসের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা, যা গত ফেব্র“য়ারি মাসের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের (সাড়ে ১২ কেজি) দাম ৭৭৬ দশমিক ৯৩ টাকা অপরিবর্তিত আছে। মার্চে ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৩৪১ টাকা (বেসরকারি), সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডার ৭৭৬.৯৩ টাকা (সরকারি)।  
গতকাল মঙ্গলবার খুলনা মহানগরীসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের দোকানগুলোতে বসুন্ধরা গ্যাস ১৫০০ থেকে ১৫৫০ টাকা, ওমেরা গ্যাস ১৫০০ থেকে ১৫৫০ টাকা, ২৫ কেজি ২৯০০ টাকা, পেট্রোম্যাক্স গ্যাস ১৪৫০ টাকা, আই গ্যাস গ্যাস ১৪০০ টাকা, নাভানা গ্যাস ১৫৮০ টাকা, ডেল্টা গ্যাস ১৪০০ টাকা, টিএমএস গ্যাস ১৪৫০ টাকা, ফ্রেশ গ্যাস ১৪৮০ গ্যাস, বিএম ১৪৫০ গ্যাস, বেঙ্গল গ্যাস ১৪৩০ গ্যাস, যমুনা গ্যাস ১৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
এসব ব্রান্ডের মধ্যে বসুন্ধরা ও ওমেরা গ্যাসের চাহিদা বেশি বলে জানা গেছে। তবে পেট্রোম্যাক্স গ্যাসের চাহিদাও কম নয়। মোংলা কারখানা থেকে অধিকাংশ গ্যাস খুলনা শহর তথা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দোকানে বিক্রি হয়ে থাকে। 
ওমেরা গ্যাসের রূপসা ও তেরখাদা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিলার আরাফাত হোসেন লিমন বলেন, বেসরকারি কোম্পানিগুলো এলপি গ্যাসের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সরকারি নিদর্শনা মানছে না কোম্পানি মালিকরা। দুই মাস ধরে কোম্পানি মালিকরা সরকারের বেধে দেওয়া মূল্য মানছে না। বিধায় কোম্পানি মালিদের কাছ থেকে ডিলাররা বেশি দামে খরিদ করে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।  
খুলনা মহানগরীর ইসলামপুর রোডস্থ মীম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের কর্মচারী বলেন, গ্যাসের দাম একটু বাড়তি। তবে দাম কমে আসতে পারে। তাদের দোকানে ১২ কেজি ওমেরা গ্যাস ডিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ১৫৫০ টাকা দরে। নগরীর রহমত স্টোরের কর্মচারী বলেন, এলপি গ্যাসের বাজার একটু বেশি। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে নেমে আসতে পারে। 
রূপসা ট্রাফিক মোড়স্থ এলাকায় কথা হয় মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃ হায়দার আলীর সাথে। তিনি বলেন, সরকার এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৩৪১ টাকা। অথচ দুইমাস ধরে সেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে ১৫৫০ থেকে ১৬৫০ টাকা দরে। 
রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন, এলপি গ্যাসের দাম বেশি। সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করছে না ব্যবসায়ীরা। দাম যাতে নিয়ন্ত্রণে আসে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ