খুলনা | বুধবার | ০৪ মার্চ ২০২৬ | ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

সুন্দরবনে বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য আটক, দু’টি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:০০ এ.এম | ০৪ মার্চ ২০২৬


গহীন সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কুখ্যাত বনদস্যু “বড় জাহাঙ্গীর” বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্য আটক করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনে নতুন করে বেশ কয়েকটি বনদস্যু বাহিনী অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ সক্রিয়ভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বনের বিভিন্ন খাল ও সাগর মোহনায় জেলেদের অপহরণ করছে, আদায় করছে মোটা অংকের মুক্তিপণ। জেলেদের ধরে টাকার জন্য করছে মারধর ও দিনের পর দিন আটকে রাখছে মুক্তিপনের জন্য। আর এর সাথে কিছু অসাধু লোক যোগসাজসে দস্যুদের সহায়তা করে আসছে। তবে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করার দৃঢ় সংকল্পে ইতোমধ্যে ৪ বাহিনীর সমন্বয়ে কোস্ট গার্ড বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা পুলিশের সমন্বয়ে বন সংলগ্ন নারায়নপুর এলাকায় বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এ অভিযানে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আফজাল সরদার (৩২) কে আটক করা হয়। প্রাথমিক পর্যায় জিজ্ঞাসাবাদে অনেক তথ্য উঠে এসেছে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুন্দরবনের পাশাখালী ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১টি শট গান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করে কোস্ট গার্ড। তবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে সুন্দরবনে যৌথ অভিযান শুরু হওয়ায় বনদস্যুরা কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ওই এলাকায় পুঁতে রেখে কয়রার নারায়ণপুর এলাকায় আত্মগোপন করেছিল বলে জানা যায়।
আটককৃত বনদস্যু আফজাল সরদার (৩২) খুলনা জেলার কয়রা থানার বাসিন্দা। সে দীর্ঘদিন যাবৎ বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে ডাকাতি এবং ডাকাত দলকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিলো। 
উলে­খ্য, আটক ডাকাত সদস্যের বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় মোট ৫টি মামলা রয়েছে বলে জানা যায়। আটককৃত ডাকাত এবং জব্দকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কোস্টগার্ড আরো বলেন, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখতে কোস্ট গার্ডের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানায় কোস্ট গার্ড। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ