খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৫ মার্চ ২০২৬ | ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

খৎনায় শিশু আয়ানের মৃত্যু: ইউনাইটেডের দুই চিকিৎসকের নিবন্ধন স্থগিত

খবর প্রতিবেদন |
১১:৪৯ পি.এম | ০৪ মার্চ ২০২৬

 

সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ান আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় দুই চিকিৎসকের নিবন্ধন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। তারা হলেন, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. তাসনুভা মাহজাবিন ও ডা. সৈয়দ সাব্বির আহমেদ।

বুধবার (৪ মার্চ) বিএমডিসি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. লিয়াকত হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে তাদের রেজিস্ট্রেশন স্থগিতের তথ্য জানানো হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের ৫৪তম কাউন্সিল সভায় ডা. তাসনুভা মাহজাবিন ও ডা. সৈয়দ সাব্বির আহমেদের বিরুদ্ধে শিশু আয়ান আহমেদের সুন্নতে খৎনার চিকিৎসাকার্যে অবহেলা পরিলক্ষিত হয়নি। তবে পেশাসুলভ আচরণের অভাব পরিলক্ষিত হওয়ায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ (৬১ নং আইন)-এর ধারা ২৩(১) এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল প্রবিধানমালা, ২০২২-এর বিধান ৩৬(৪)(খ) অনুযায়ী বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার হতে তাদের দুজনের নিবন্ধন বাতিল করে ছয় মাসের জন্য সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, উক্ত আইনের ধারা ২২(১) অনুযায়ী এই সময়ে তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে কোনো এলোপ্যাথি চিকিৎসা অথবা নিজেকে মেডিকেল চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞাটি ৩ মার্চ থেকে কার্যকর হবে।

শিশু আয়ান রাজধানীর একটি বেসরকারি স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাকে সুন্নতে খৎনা করাতে সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগের মাধ্যমে খৎনা করা হলেও অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরও তার জ্ঞান না ফেরায় তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরবর্তীতে আট দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দিবাগত রাতে চিকিৎসকেরা আয়ানকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৯ জানুয়ারি আয়ানের বাবা শামীম আহমেদ অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে বাড্ডা থানায় মামলা করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ