খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৫ মার্চ ২০২৬ | ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

সংকটে বেসরকারি খাত স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনুন

|
০১:০০ এ.এম | ০৫ মার্চ ২০২৬


দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। নতুন বিনিয়োগ নেই। ফলে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। ঋণের অতি উচ্চ সুদহারের কারণে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অর্থনীতির স্বাভাবিকতা ধরে রাখার জন্য শিল্পের উৎপাদন যেখানে ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কথা, সেখানে গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে শিল্পের উৎপাদন ক্রমেই কমছে। কোনো কোনো শিল্পাঞ্চলে তা উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকে নেমেছে। এতে উদ্যোক্তাদের লোকসান বাড়ছে। শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের হিসাবে গত দেড় বছরে বন্ধ হয়ে গেছে পাঁচ শতাধিক কারখানা। বেকার হয়েছেন লাখ লাখ কর্মী। শিল্পোৎপাদন সূচক কমেছে ১২ শতাংশ। আর এর প্রভাব পড়ছে সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে।
রাজস্ব আয় ক্রমাগতভাবে কমছে। দেশি-বিদেশি ঋণ বাড়ছে। বাড়ছে সেসব ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ। 
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে ঋণ-রাজস্ব অনুপাত ছিল ১৬.৯২ শতাংশ। অথচ এর আগের বছর এই অনুপাত ছিল ১৬.৫৩ শতাংশ।
এই অনুপাত ১৮ শতাংশের বেশি হলে বিপদে পড়তে পারে দেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) ১৮ শতাংশকে দেখছে সতর্কসীমা হিসেবে। পরিসংখ্যান বলছে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায়ও ঋণের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৮.৯৯ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ১৭.০৩ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭.২৭৯ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগে ছিল ৬৮.৮২২ বিলিয়ন ডলার। ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি চাপ বাড়ছে ঋণ পরিশোধেরও। 
অন্যদিকে ঋণে জর্জরিত হলেও এ সময়ে বাড়েনি রাজস্ব আয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রাজস্ব ঘাটতি ছাড়িয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। আইএমএফের ‘আর্টিকল ফোর কনসালটেশন রিপোর্ট’ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপেছে দেশি-বিদেশি ঋণের কিস্তি ও সুদ বাবদ ৩০ বিলিয়ন ডলার। 
ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপি ও উচ্চ সুদহার বিনিয়োগ ও ব্যবসার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। খেলাপি ঋণের বোঝা, সুদহার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও স্বচ্ছতার অভাব একসঙ্গে দেশের ব্যবসা পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। গত শনিবার সিপিডি কার্যালয়ে ‘নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত : ১৮০ দিন ও তারপর’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
এই অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে টেনে তুলতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ। ব্যবসায়ী-বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বসে বেসরকারি খাতের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং তা সমাধানে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংকঋণের সুদহার কমাতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়াতে হবে। আমরা আশা করি, নতুন সরকার দ্রুততম সময়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক করতে উদ্যোগী হবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ