খুলনা | শুক্রবার | ০৬ মার্চ ২০২৬ | ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর আহবান : ‘যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার, গাড়ির ব্যবহার সীমিত জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে’

অফিসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা সরকারের

খবর প্রতিবেদন |
১১:০৭ পি.এম | ০৫ মার্চ ২০২৬


বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র (এসি) ব্যবহারের মাত্রা কমিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে উদ্যোগী হওয়ার আহŸান জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি নিজ কক্ষের প্রায় ৫০ শতাংশ লাইট বন্ধ করে দেন এবং এসির তাপমাত্রা ২৫ দশমিক ১ ডিগ্রিতে নির্ধারণ করেন, যা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সহায়ক।”
অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, পরে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেও প্রধানমন্ত্রী কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ রাখার এবং এসির মাত্রা কমিয়ে রাখার নির্দেশ দেন।
সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের পর তার দপ্তরের সব কক্ষেই তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির ব্যবহার সীমিত করা হয়।
আতিকুর রহমান রুমন আরো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সব মন্ত্রণালয় ছাড়াও সারাদেশের সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল ও বিপণিবিতানসহ সব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহŸান জানিয়েছেন। পাশাপাশি দিনের বেলায় লাইট কম ব্যবহার করে জানালার পর্দা সরিয়ে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ : দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠান-দপ্তরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ পরিষদ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
উপ-সচিব তানিয়া আফরোজের সই করা ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা প্রয়োজন। সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা ও করপোরেশনসহ সকল অফিসসমূহে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে:
দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে।
এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার উপরে রাখতে হবে।
অফিস কক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে।
অফিসের করিডোর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে।
অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ