খুলনা | শুক্রবার | ০৬ মার্চ ২০২৬ | ২১ ফাল্গুন ১৪৩২

যুদ্ধের প্রভাব অর্থনীতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে

|
১২:২৫ এ.এম | ০৬ মার্চ ২০২৬


ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ ক্রমেই জোরদার আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে কাতার ইরানি ভূখন্ডে হামলা চালিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোকেও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করতে ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আর এই যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সারা বিশ্বেই। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের কোনো কোনো দেশে গ্যাসের দাম এরই মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫ বেড়ে ৮৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। পরিবহন খরচও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি।
যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ভোগান্তি ততই দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। বাংলাদেশেও তার প্রভাব তীব্র হবে। এ জন্য যতভাবে সম্ভব পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ ক্রমেই নোংরা রূপও নিচ্ছে। ইরান বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি বা স্থাপনায় তারা হামলা চালাচ্ছে, কিন্তু বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তারা আঘাত করছে না। ইরানের অভিযোগ, তেলক্ষেত্রসহ বেসামরিক স্থাপনায় ইসরায়েল হামলা চালিয়ে ইরানের ওপর দোষারোপ করছে। তাদের মতে, এর উদ্দেশ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যাতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে। অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা জোটের সামরিক উপস্থিতি এত বেশি যে তারা যা বলবে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে তা-ই করতে হবে। ফলে আঞ্চলিক যুদ্ধের আগুন শিগগিরই নিভবে বলে মনে হয় না, বরং দিন দিন তা আরো ভয়াবহরূপে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
যুদ্ধ তখনই থামতে পারে, যদি ইরান সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত হয়, কিন্তু বাস্তবে তেমনটি সম্ভব বলেও মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা। আফগানিস্তানে ২০ বছর ধরে যুদ্ধ করেও তালেবানকে পর্যুদস্ত করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে এই যুদ্ধের আগুন যত জ্বলবে, বৈশ্বিক প্রভাবও তত বেশি তীব্র হতে থাকবে।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ সারা বিশ্বে অশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহনের ২০ শতাংশ এবং এশিয়ায় পরিবহন করা জ্বালানি তেলের ৭০ শতাংশ আসে এই পথে। বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহৃত হয় ডিজেল। পরিবহন, সেচ, কারখানাসহ নানা স্থানে ডিজেল ব্যবহৃত হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বাংলাদেশে ডিজেলের মজুদ আছে মাত্র ১৪ দিনের। অথচ সামনেই বোরো ধানে সেচের চূড়ান্ত সময়। এ সময় ডিজেলের সংকট হলে বোরো ধান চাষে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা বর্তমানে দৈনিক চার হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গত মঙ্গলবার সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৬৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসই এসেছে এলএনজি থেকে। আর এলএনজির একটি বড় অংশ আসে কাতার থেকে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে কাতারে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যুতের বড় চাহিদা মেটায় গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো। গ্যাসের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হলে চলতি মাসের শেষ দিকে বিদ্যুতের ঘাটতিও চরম পর্যায়ে চলে যেতে পারে। তাই বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা করতে হবে এবং তা করতে হবে দ্রুততম সময়ে।
আমরা মনে করি, পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকার অবশ্যই সচেতন আছে। আশা করি, অনাকাক্সিক্ষত যেকোনো পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ