খুলনা | শনিবার | ০৭ মার্চ ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা চূড়ান্ত, ঘোষণা বাকি

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩২ এ.এম | ০৭ মার্চ ২০২৬


ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বা আয়াতুল­াহ চ‚ড়ান্ত করা হয়ে গেছে। এখন কেবল ঘোষণা বাকি। এমনটাই জানিয়েছেন, ইরানের তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরা খারাজমি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোহরা খারাজমি ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের’ আটজন সদস্য পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া বয়কট করেছেন বলে যে খবর ছড়িয়েছে, সেটিকে ‘গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। খারাজমি ইঙ্গিত দিয়েছেন, একজন সর্বোচ্চ নেতা হয়তো ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়ে আছেন কিন্তু তাঁর নাম এখনো জনসমক্ষে ঘোষণা করা হয়নি।
তেহরানে আল জাজিরাকে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী নেতার জীবন রক্ষা করা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত...এটি একটি অত্যন্ত যৌক্তিক নিরাপত্তা প্রোটোকল।’
ইরানি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো গত কয়েক দিনে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কীভাবে এবং কখন হামলা চালানো যায় সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরামর্শ করে থাকতে পারে বলে যে খবর এসেছে, তার বিপরীতে ওই অধ্যাপক বলেন যে কুর্দিরা ইরানের সমর্থনেই আছে।
ইরানি বাহিনী বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে একটি অভিযানও শুরু করেছে। খারাজমি বলেন, ‘আমি মনে করি এটি...রাজনৈতিক প্রচারণা...ইরানিরা তাদের দমন করবে, এবং আমি মনে করি না তারা কার্যকর কিছু করতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি তেহরানে যা দেখছি তা হলো উচ্চ সামাজিক সংহতি এবং ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি সমর্থন।’
এর আগে, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের প্রথম দিনেই হামলায় ইরানের সর্বশেষ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল­াহ আলি খামেনি নিহত হন। গত সপ্তাহের শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল­াহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর জায়গায় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
আয়াতুল­াহ খামেনি তাঁর কোনো উত্তরসূরি মনোনীত করে যাননি। ফলে ইরানের সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি ‘অন্তর্বতীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। নতুন নেতা নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই পরিষদই সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করবে। এই পরিষদের সদস্যরা হলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেন মহসেনি ইজেই ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ফকিহ (আইনবিদ) শেখ আলিরেজা আরাফি।
ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতার (বলি-ই-ফকিহ) পদটি সবচেয়ে শক্তিশালী। রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইনসভা এবং বিচার বিভাগের ওপর তাঁর একক কর্তৃত্ব রয়েছে। ১৯৮৯ সালের জুনে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল­াহ রুহুল­াহ খোমেনির মৃত্যুর পর আলী খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন এবং প্রায় ৩৬ বছর ইরান শাসন করেছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ