খুলনা | শনিবার | ০৭ মার্চ ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

সংকট আতঙ্কে সাতক্ষীরার বিভিন্ন পাম্পে তেল কেনার হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০১:৩৩ এ.এম | ০৭ মার্চ ২০২৬


আমেরিকা ও ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের আতঙ্কে সাতক্ষীরার পেট্রোল পাম্পগুলোতে হঠাৎ করে তেল কেনার হিড়িক পড়েছে। শুক্রবার সকাল থেকেই সাতক্ষীরা শহর ও আশেপাশের এলাকায় অবস্থিত পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের উপচে পড়া ভিড়। বৃহস্পতিবার রাতেও ছিল একই চিত্র। 
এদিকে হঠাৎ করে পাম্পগুলোতে তেল কেনার হিড়িক পড়ায় এক সঙ্গে বেশি তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত যাতে তেলের মজুদ ফুরিয়ে না যায় এবং সব গ্রাহকরা যাতে কম বেশি তেল পায় সেজন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিক পক্ষ।
শুক্রবার জুম’আ নামাজের পর সাতক্ষীরা শহরের মেসার্স এবি খান পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা গেছে গাড়িতে তেল নেওয়ার জন্য বিশষে করে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন। কিন্তু পাম্প থেকে ৩০০ টাকার বেশি কাউকে তেল দেওয়া হচ্ছে না। একই অবস্থা দেখা গেছে শহরের সংগ্রাম ফিলিং স্টেশন, মোজাহারের পেট্রোল পাম্প, শহরের অদূরে সোনালী ফিলিং স্টেশন, ইউরেকা ফিলিং স্টেশন ও পাটকেলঘাটার মজুমদার ফিলিং স্টেশনে। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন। এ সময় অনেক চালক স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তেল সংগ্রহ করতে চাইলে তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর মিলেছে তেল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক পাম্প মালিক মাথাপিছু সর্বোচ্চ ২ লিটার অথবা মোট ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। এছাড়া অনেক পাম্পে যথেষ্ট পরিমাণে তেল মজুদ নেই।
পাটকেলঘাটার মজুমদার ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের পাশপাশি অনেকে বাসা বাড়ির জন্য অগ্রিম ডিজেল বা পেট্রোল সংগ্রহের জন্য ড্রাম নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
তেল নিতে আসা পাটকেলঘাটার জাহিদ হোসেন জানান, শুনেছি কাল থেকে তেল পাওয়া যাবে না, তাই তড়িঘড়ি করে তেল নিতে এসেছি। আগে কখনো ট্যাংক ফুল না করলেও আজ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পাম্প থেকে ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না।
মেসার্স এবি খান পেট্রোল পাম্পের মালিক বাবু খান জানান, হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার রাত থেকে পাম্পে তেল নেওয়ার জন্য ভীড় বেড়ে যায়। অতিরিক্ত চাপের কারণে দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যেতে পারে এই শঙ্কায় ও পরিস্থিতি মোকাবেলায় গ্রাহকদের তেলের পরিমাণ কমিয়ে ৩০০ টাকায় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এরপরও অনেকে তেল নিয়ে লাইন ঘুরে আবার এসে আরো ৩০০ টাকার তেল নিচ্ছে। গুজবে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কারণে সাময়িক এই চাপের সৃষ্টি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। 
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেল মজুত মাত্র নয় দিনের থেকে ১৪ দিনের। অকটেন মজুত রয়েছে ১৫ থেকে ২৫ দিনের, পেট্রোল ১৬ দিনের এবং ফার্নেস অয়েল ৬০ থেকে ৭৬ দিনের। ফলে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বরাদ্দ ১০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ