খুলনা | শনিবার | ০৭ মার্চ ২০২৬ | ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

নরসিংদীতে ৪ সন্তানের জননীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৯ এ.এম | ০৭ মার্চ ২০২৬


নরসিংদীর মাধবদীতে ফোনে পরিচয়ের সূত্রে দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪০ বছর বয়সী এক নারী। তিনি চার সন্তানের জননী। বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দার  একটি মাছের খামারের পুকুর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বিকেলে ঘটনায় জড়িত রিদয় মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই নারী তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার মার্কেটে ঈদের শপিং করতে যান। মেয়েকে ঈদের জামা কিনে দিয়ে ইফতারের আগেই বাসায় পাঠিয়ে দেন। গত ৩ থেকে ৪ দিন আগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সাথে ওই নারীর মোবাইলে কথাবার্তা হয়। ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার মার্কেটে এসেছেন জানতে পেরে রিদয় দেখা করতে চান। পরে ওই নারী একাই অটো যোগে রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান। সেখানে রাস্তায় রিদয়ের সাথে কথা বলার একপর্যায়ে ওই নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রিদয়। বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হলে রিদয় তাকে রাস্তা থেকে পুকুর পাড়ের দিকে টেনে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আরও অজ্ঞাতনামা তিনজন ওই নারীকে পুকুর পাড়ে ফেলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। পরে ওই নারীর মোবাইল ও টাকা কেড়ে নিয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বলেন। ওই নারী তাৎক্ষণিক দৌড়ে পাশেই থাকা একটি পাওয়ার লোম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং তাদের ঘটনাটি জানান। পরে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে রিদয় মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। 
মাধবদী থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানাকে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে নরসিংদীর মধ্যে ঘটনা হওয়ায় আমাদের জানায়। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কারও নাম বলতে পারেননি ও শুধু মোবাইলের নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্ত রিদয়কে আমরা গ্রেফতার করি। সে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে। 
তিনি আরও বলেন, আমরা বাকিদের পরিচয়ও শনাক্ত করেছি। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যহত রয়েছে। ইতিমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আগামীকাল আদালতে পাঠানো হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ