খুলনা | সোমবার | ০৯ মার্চ ২০২৬ | ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ভয়াবহ রূপ নিতে পারে জ্বালানি সংকট সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে

|
১২:১৪ এ.এম | ০৮ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ ক্রমে বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বাংলাদেশেও সংকট ক্রমে ঘনীভূত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে জ্বালানি খাত।
বাংলাদেশে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানি হয় মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এসব আমদানি প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফলে পরিবহন, শিল্প-কারখানা, এমনকি গৃহস্থালি গ্যাসের চাহিদা পূরণে বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, এরই মধ্যে দেশের গ্যাসভিত্তিক ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার মধ্যে পাঁচটিই বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরানে হামলার পর ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও সম্পদের ওপর হামলা শুরু করেছে। ইরানের পাল্টা হামলার কারণে এরই মধ্যে সৌদি আরবের বড় একটি তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে গেছে। একই সময়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এলএনজি রপ্তানিকারক দেশ কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায়।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ এবং এশিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ তেল ও এলএনজি পরিবাহিত হয় এই পথ দিয়ে। এসব কারণে একদিকে সরবরাহ সংকট বেড়েছে, অন্যদিকে বাড়ছে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেল ৬৭ থেকে বেড়ে ৮৪ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এই দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ হয়ে গেলে বাংলাদেশকে পরিশোধিত তেল আমদানি বাড়াতে হবে।
পরিশোধিত তেলের দামও দ্রুত বাড়ছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম ৮৮ থেকে বেড়ে ১৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে। প্রাপ্তির ক্ষেত্রেও সংকট আছে। বাংলাদেশ পরিশোধিত তেল আমদানি করে চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে। চীন এরই মধ্যে নিজেদের পরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটতে পারে। ফলে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশকে উলে­খযোগ্য পরিমাণে রিজার্ভ গড়ে তুলতে হবে।
গ্যাসের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি একই রকম। দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ৩৫ শতাংশ পূরণ করা হয় আমদানি করা এলএনজি দিয়ে। এই এলএনজির বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার ও ওমান থেকে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় চার হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। গত বৃহস্পতিবার এলএনজিসহ মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৬৫৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে এলএনজির মাধ্যমে। ফলে এলএনজি আমদানি ব্যাহত হলে সংকট মারাত্মক রূপ নেবে। বর্তমানে দৈনিক ঘাটতি দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। এর ওপর পেট্রোবাংলা দৈনিক ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কখনো কখনো পরিস্থিতি এমন হয়, যখন পুরো জাতিকে সংকট মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ হতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা তেমনই। এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার যে আহŸান জানিয়েছেন, আমরা মনে করি, সেই আহŸানে সবারই সাড়া দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ