খুলনা | শনিবার | ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

খুলনায় চূড়ান্ত লড়াই, আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে তিন দফা সংঘর্ষ

৩৪ জুলাই ২০২৪: এক দফা দাবি ও অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৯ এ.এম | ০৩ অগাস্ট ২০২৫


৩৪ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এক বিশাল সমাবেশে তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পদত্যাগে এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ ইসলাম বিকেল ৫টার দিকে সর্বস্তরের হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা দেন এবং শেখ হাসিনার সংলাপের আহŸান প্রত্যাখ্যান করেন। এর আগে সকালে, শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বলেন, ‘গণভবনের দরজা খোলা। আমি আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে বসতে চাই এবং তাদের কথা শুনতে চাই। আমি কোনো সংঘাত চাই না।’
তবে, শেখ হাসিনার আহŸান প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ বলেন, তারা শুধু শেখ হাসিনার নয়, সম্পূর্ণ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ দাবি করছেন। তারা আন্দোলনের সময় সকল হত্যাকান্ড ও অপহরণের জন্য শেখ হাসিনার বিচারের দাবিও জানান। নাহিদ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ছিলেন এবং এখন এনসিপি’র প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। তারা এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান যেখানে স্বৈরাচার আর কখনো যেন ফিরে আসতে না পারে, এবং তিনি জনগণকে দেশব্যাপী ‘ছাত্র-জনতার গণ-জাগরণে’ যোগ দেওয়ার আহŸান জানান। তারা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে একটি জাতীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠন করবেন এবং সবাইকে ৪ আগস্ট থেকে তাদের পূর্বঘোষিত সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণের আহŸান জানান। সমাবেশটি সন্ধ্যা ৬টার দিকে শেষ হয়। বিক্ষোভকারীরা টিএসসি এলাকায় জড়ো হয়ে রাজু ভাস্কর্যের চোখ লাল কাপড় দিয়ে বেঁধে দেয়। পরে বিক্ষোভকারীরা সন্ধ্যা ৭টার দিকে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে। 
এছাড়া আন্দোলনের আরেক প্রধান সমন্বয়কারী আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়াও অসহযোগ আন্দোলন সফল করতে জনগণের জন্য ১৫ দফা ঘোষণা দেন।
এর আগে, সেদিন সকাল থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের দিকে আসতে শুরু করে, তারা জাতীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন এবং জনস্রোত দোয়েল চত্বরের পূর্ব, জগন্নাথ হলের পশ্চিম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গেটের দক্ষিণ এবং শিববাড়ী মোড়ের উত্তর পাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এই এলাকাগুলো ‘দফা এক, দাবি এক, শেখ হাসিনার পদত্যাগ’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। এছাড়াও, বিক্ষোভকারীরা সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে যেমন-বাড্ডা, রামপুরা এবং বনশ্রীতে অবস্থান নেয় এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় নিহতদের বিচারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে। এক পর্যায়ে তারা রামপুরা-বাড্ডা সড়ক অবরোধ করে। 
ছাত্ররা বিকেলে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় এবং মিরপুর রোড অবরোধ করে। এ সময় মিরপুর-১০ গোলচত্বরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করে। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও মিরপুরের ডিওএইচএস এলাকায় এক সমাবেশ করে আন্দোলন চলাকালে হত্যাকান্ডের বিচার দাবি করেন। এদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শহর জুড়ে অবস্থান নিলেও তারা বিক্ষোভকারীদের খুব একটা বাধা সৃষ্টি করেনি। তবে, সেদিন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান রাজধানীর সেনা সদর দপ্তরে অবস্থিত হেলমেট অডিটোরিয়ামে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে জনগণের জীবন, সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের জনগণের বিশ্বাসের প্রতীক এবং তারা দেশ ও জনগণের স্বার্থে সব সময় জনগণের পাশে থাকবে। তিনি সেনা কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন গুজব সম্পর্কে সচেতন থাকতে বলেন এবং আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
সেদিনই, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মিছিল করে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সারাদেশে চারজন সাংবাদিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সরকারের পদত্যাগ দাবি করে।
এছাড়াও, রাজধানীর বাইরে শিক্ষার্থীরা ৩ আগস্টও তাদের আন্দোলন চালিয়ে যায় এবং দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করে রাজধানীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। বিকেল ৫টার দিকে ছাত্ররা যাত্রাবাড়ী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। এদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। বিপিএটিসি স্কুল এ্যান্ড কলেজ এবং সাভার মডেল কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জাবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এই বিক্ষোভে যোগ দেয়।
এছাড়াও, সিলেট, কুমিল­া, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল ও জামালপুরে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে, এবং গাজীপুরে কমপক্ষে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। চট্টগ্রামে, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর বাসভবনে হামলা হয়। বাসার সামনে পার্ক করা দু’টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-১০ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চুর লালখান বাজারে অবস্থিত কার্যালয়েও হামলা হয় এবং কার্যালয়টিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। রংপুরে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সেখানে কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কারী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে, কুমিল­ার রেসকোর্স এলাকায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও সরাসরি গুলি চালায়।
তবে, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ৩ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই বিক্ষোভ আর শুধু ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
বগুড়ায় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের বারবার সংঘর্ষ হয় এবং পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও শটগানের গুলি ছুড়ে। শহরের সাতমাথা, সার্কিট হাউজ মোড়, রোমেনা আফাজ রোড, কালীবাড়ি মোড়, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বাকী রোড ও জেলখানা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে সেদিন কমপক্ষে ছয়জন শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হন।
খুলনা : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিকে খুলনায় চূড়ান্ত পর্যায়ের লড়াই শুরু হয় চব্বিশের ৩৩ জুলাই। এ দিন ছাত্র-জনতার গণমিছিলকে বাধাগ্রস্ত করতে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার লাঠিয়াল বাহিনী পুলিশ নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ জনতার উপর হায়েনার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাবার বুলেট, টিয়ারশেল, সাউন্ড ও লাঠিচার্জে বহু সংখ্যক ছাত্র-জনতা আহত হয়। ক্ষুব্ধ জনতার রোষানলে পড়ে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব হামলা-পাল্টা হামলা, ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে পুলিশের একজন কনস্টেবল নিহত হন। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দুপুর ২টার দিকে খুলনার নিউ মার্কেট এলাকা থেকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিল শুরু হয়। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে গল­ামারী মোড়ে পৌঁছায়। এরপরই জিরোপয়েন্টের দিক থেকে পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে টিয়ারসেল ছোড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জনতাও যোগ দেয়। পরে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে পুলিশ ধীরে ধীরে পিছু হটে যায়। আন্দোলনকারীরা জিরোপয়েন্টে অবস্থান নেয়। 
আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দুপুরে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া নিয়ে বিকেল ৪টার দিকে পুলিশের সাথে ছাত্রদের দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ শুরু হয়। জিরোপয়েন্ট মোড়ে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের দুই পাশ দিয়ে ঘিরে রাখে পুলিশ। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পুলিশ একের পর এক টিয়ালসেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের একটি অংশ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়। তাদেরও সাঁজোয়া যান নিয়ে ঘিরে রাখে পুলিশ। সেখানেও টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। ছাত্র-জনতার গণমিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ প্রায় এক ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে। আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করবে এমন আশ্বাসে পুলিশ পিছু হটে যায়। পরে তারা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে সমাবেশ শুরু করে। সমাবেশ শেষে বিকেলে তারা মিছিল নিয়ে শিববাড়ি মোড়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। এ নিয়ে একই দিনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় পুলিশ। এ সময় পুলিশ মুহুর্মুহু টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। পুরো গল­ামারী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে এক পথচারীসহ কমপক্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধ হন। গল­ামারী ব্রিজের এক পাশে শিক্ষার্থী ও অপর পাশে অবস্থান নেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে অসংখ্য টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা পুলিশের একটি পিকআপে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ (রাবার বুলেট ও শটগানের ছররা) অবস্থায় ৭ জনসহ ১৬ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ পিছু হটলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সংঘর্ষের পর সিরাজুল ইসলাম, আবির, নীরব, নাবিল, মিজান, সৌরভ, আবদুল­াহ, রায়েব সুলতানা রাইবা এবং রুবিনা ইয়াসমিনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের শরীরে রাবার বুলেট ও শটগানের ছররা গুলি লাগে। এছাড়া আরো কয়েকজন ব্যক্তিগতভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
চিকিৎসকরা জানান, আহতদের অনেকের দেহে গুলি লেগেছে। এদের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির কপালে রবার বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আসেন। জরুরি ভিত্তিতে অপারেশনের মাধ্যমে তার কপালের বুলেট বের করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া কমপক্ষে ৭/৮ জনের শরীরে গুলি রয়েছে। বাকিরা টিয়ারসেল, রাবার বুলেট ও ইটের আঘাতে আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ এদিন শান্তিপূর্ণ মিছিলে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। বিভিন্নস্থানে বাধা সৃষ্টি  করেছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বিচারে টিয়ারসেল ও গুলি ছুঁড়েছে। এতে অসংখ্য শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায়-দফায় সংঘর্ষে সুমন ঘরামি (৩৩) নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। তিনি খুলনা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত ছিলেন। সংঘর্ষে কর্তব্যরত ২০-২৫ জন পুলিশ গুরুতর আহত হন। কনস্টেবল সুমন কুমার ঘরামি নিহত হন।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন খুলনা মহানগর শাখার আহŸায়ক আল শাহরিয়ার বলেন, জেলের দেয়াল কখনো কোনো আন্দোলন থামাতে পারেনি, পারবেও না। ইতিহাস সাক্ষী, কারাগারেই জন্ম নিয়েছে মুক্তির জয়গান। তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী নারীদের ভূমিকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। পুলিশের  গ্রেফতারের হাত থেকে কৌশলে ফিরে আসা শাম্মী ইসলামের নির্ভীক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। আফসারি হাসান অপরুপা, হাফসা, স্নিগ্ধা, মুন্নিসহ যেসব ছাত্রীরা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

্রিন্ট

আরও সংবদ