খুলনা | রবিবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

পুলিশের সামনেই হামলা, তিন সংবাদকর্মী জখম * ২০ দোকান ও বাড়িঘর ভাঙচুর, এলাকায় আতঙ্ক

রামপালে ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সভাপতি প্রার্থীসহ আহত অর্ধশত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১১:১৭ পি.এম | ০৩ অগাস্ট ২০২৫


বাগেরহাটের রামপালে ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। রোববার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজনকে মারধরের পাশাপাশি বাজারের অন্তত ২০টি দোকান ও পাশের কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে নেতা-কর্মীরা।
বিএনপি’র নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, রামপাল উপজেলার মলি­কের বেড় ইউনিয়ন বিএনপি’র সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে দুই সভাপতি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। বিভিন্ন সময় উভয়পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। শনিবার রাতে ইউনিয়নের বেতবুনিয়া পাকা রাস্তার মাথায় মলি­কের বেড় ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল আলিমের লোকজন সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকসহ ১১ জনকে মারধর করেন। ওই রাতেই আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মারধরের প্রতিবাদ ও হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে রোববার বিকেলে আব্দুল আলিমের প্রতিদ্ব›দ্বী সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকের লোকজন পুলিশের অনুমতিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। মানববন্ধনের জন্য জড়ো হলে আব্দুল আলিম হাওলাদারের লোকজন অতর্কিত ভাবে সাজারুল ইসলাম সাজু ও তার লোকজনের উপর হামলা করে। এতে সভাপতি প্রার্থী সাজুসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। এই হামলার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সাজু ও তার লোকজন আব্দুল আলিমের লোকজনের উপর হামলা করে। তারা আব্দুল আলিমের বসত বাড়ি, সন্ন্যাসী বাজারের ২০টি দোকান ভাঙচুর করে।      
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সন্ন্যাসী বাজারে দেখা যায়, পুলিশের সামনেই সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু, সাবেক যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম ও তার লোকজন দফায় দফায় আব্দুল আলিমের লোকজনকে ধাওয়া করে এবং মারধরের চেষ্টা করছে। বাজারের বিভিন্ন দোকান ভাঙচুর করছে। আর বাজারের পাশে থাকা দু’টি ভবনের ছাদ থেকে সাজুর লোকদের উপর ইট ছুড়ছে আব্দুল আলিম হাওলাদারের লোকজন। পুলিশ থামানোর চেষ্টা করলেও ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা থামছে না। কিছুক্ষণ পরে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আতিকুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। কয়েক মিনিটের জন্য শান্ত হলেও পরক্ষণে পুলিশের সামনেই আবারও লাঠিসোটা নিয়ে দোকান ও পাশে থাকা আব্দুল আলিমের বসতবাড়ি ভাঙচুর করে। পরে আরও পুলিশ আসে ঘটনাস্থলে। সন্ধ্যার আগমুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি পরিস্থিতি শান্ত রাখতে। উভয়পক্ষ ইটপাটকেল ছুড়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমরা তাদেরকে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছি।
সাবেক যুবদল নেতা জাহিদুল ইসলাম বলেন, সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী শামীম হাসান পলকের বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে তাদের প্রতিদ্ব›দ্বী সভাপতি প্রার্থী নিজেদের ভরাডুবি ভেবে নির্বাচন বানচাল করার জন্য আমাদের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করে। তাদের হামলায় আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান মিঠু ও মজনুর নেতৃত্বে এই হামলা হয়।
মলি­কেরবেড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, পুলিশ আসছিল রামপাল থানা থেকে। পুলিশের সামনেই আব্দুল আলিমের লোকজন অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের উপর হামলা করেছে।
সংঘর্ষে আহত ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি প্রার্থী সাজারুল ইসলাম সাজু বলেন, প্রতিদ্ব›দ্বী সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আলিম হাওলাদারের লোকজন আমাদের উপর হামলা করে। আমাদের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। আমরা চেয়েছিলাম শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করতে, কিন্তু তারা অতর্কিতভাবে আমাদের উপর হামলা করে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সভাপতি প্রার্থী আব্দুল আলিম হাওলাদারকে বারবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে সংঘর্ষ ও ইটপাটকলে ছোড়াছুড়ির সংবাদ সংগ্রহের সময় অন্তত তিন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন, দৈনিক দিনকালের স্টাফ রিপোর্টার হেদায়েত হোসেন লিটন, দিপ্ত টেলিভিশনের বাগেরহাট প্রতিনিধি মামুন আহমেদ, নাগরিক টেলিভিশনের বাগেরহাট প্রতিনিধি শেখ আহমেদ তারিক।  

্রিন্ট

আরও সংবদ