খুলনা | শনিবার | ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

সাতটি মোটরসাইকেল, হাতকড়াসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ

নড়াইলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পুলিশ সাবেক সেনা ও নৌসদস্যসহ গ্রেফতার ৯

নড়াইল প্রতিনিধি |
১২:২৩ এ.এম | ০৪ অগাস্ট ২০২৫


নড়াইলের লোহাগড়ায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন পুলিশ কনস্টেবল, একজন চাকুরিচ্যুত সেনা ও একজন নৌবাহিনীর সদস্য রয়েছেন। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে লোহাগড়া পৌরসভা এলাকার আলা মুন্সির মোড় থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 
পুলিশ জানিয়েছে তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য এবং ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি মোটরসাইকেল ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। লোহাগড়া থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 
গ্রেফতারকৃত পুলিশ সদস্য হলেন সাতক্ষীরা সদর থানাধীন কটিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্য ইজাজ আহম্মেদ (৩৩)। তার বিপি নং-৯১১১১৪৩০৮৫। তিনি ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জের আব্দুল মালেকের ছেলে। চাকুরিচ্যুত সেনাবাহিনীর সদস্যের নাম হাফিজুর রহমান (৩৩) তার বাড়ি যশোরের ঝিকরগাছায়। চাকুরিচ্যুত নৌবাহিনীর সদস্যের নাম অমিত কাজী (২৮)। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়ায়। 
গ্রেফতার অন্য ছয়জন হলেন নড়াইলের লোহাগড়ার আসাদ মোল­ার ছেলে তনু মোল­া (৩৩), যশোরের ঝিকরগাছার শহিদুল ইসলামের ছেলে শামীম রেজা (২৩), একই এলাকার জিয়াউর রহমানের ছেলে শাওন রহমান (২৮), গোপালগঞ্জ কাশিয়ানির ফিরোজ হোসেনের ছেলে আল আমিন (৩২), একই এলাকার কালা মিয়া শেখের ছেলে মোখলেস শেখ (৪০) এবং ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের ওলিয়ার রহমানের ছেলে মাসুদ রানা (৩০)। 
লোহাগড়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে তাদের নিয়মিত টহল চলাকালীন সময়ে পৌরসভার আলা মুন্সির মোড় এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ দল নজরে আসে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে, এতে পুলিশের সন্দেহ হয়। তখন তাদের তল­¬াশি চালিয়ে তাদের কাছে থাকা ব্যাগের মধ্য মোটরসাইকেলের তিনটি খোলা নাম্বার পে¬ট, পুলিশের একটি কোটি, হাতকড়া, পেপার কাাঁর, রড, হাতুড়ি, দাসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম পাওয়া যায়। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত ৭টি দ্রুত গতির মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাবাদ করে ও পুলিশের সার্ভার পর্যালোচনায় অমিত, শামীম, আল-আমিন ও মোখলেসের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, দস্যুতা, অস্ত্র, মাদকসহ স্পর্শকাতর মামলার সন্ধান পাওয়া যায়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, তারা ডাকাতির প্রস্তুতি নিয়েছিল। এ সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। বড় ধরনের অঘটন ঘটানোর জন্যে যশোর, ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ ও নড়াইলের সংঘবদ্ধ দলটি একত্রিত হয়েছিলো। এদের মধ্যে মোখলেস ও আল-আমিনের বিরুদ্ধে ৪টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। তাদের সকলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের পর গতকাল বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন। 
 

্রিন্ট

আরও সংবদ