খুলনা | মঙ্গলবার | ১০ মার্চ ২০২৬ | ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা : অনিয়ম ঠেকাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি

খুলনায় সরকারি ডিপো থেকে তেল বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ!

এন আই রকি |
০১:২৮ এ.এম | ১০ মার্চ ২০২৬


খুলনার যমুনা অয়েল ডিপোর তেল বিতরণ কার্যক্রমে চরম অব্যবস্থাপনা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা ও নির্ধারিত রোস্টার উপেক্ষা করে সাধারণ ডিলারদের তেল বঞ্চিত করার প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। সোমবার সকালে এ অনিয়মের প্রতিবাদে যমুনা ডিপো প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন খুলনা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার ডিলাররা। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সেনাবাহিনী বা জেলা প্রশাসনের সরাসরি তদারকিতে তেল বণ্টনের জোর দাবি তুলেন তারা। 
জানা গেছে, বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সারা দেশের ন্যায় খুলনাতেও জ্বালানি তেলের বিপণন কার্যক্রম সরকারের বেঁধে দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ৮ মার্চ থেকে খুলনার পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এই তিনটি সরকারি ডিপোর বিক্রয় বিভাগ থেকে রোস্টারের মাধ্যমে পেট্রোল পাম্প মালিকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল বিতরণ শুরু হয়। তেল সংকট নিয়ন্ত্রণের জন্য খুলনা বিভাগসহ বৃহত্তর ১৫ জেলার প্রায় ৪১৫টি পেট্রোল পাম্পকে এই রোস্টারের আওতায় আনা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি পাম্পের এক দিন অন্তর তেল পাওয়ার কথা। পদ্মা ও মেঘনা অয়েল ডিপোর আওতাধীন ৩০৪টি পেট্রোল পাম্পে রোস্টার অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও যমুনা ডিপোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। যমুনার তালিকাভুক্ত ১১১টি পেট্রোল পাম্পের মালিকরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। 
অভিযোগ উঠেছে, যমুনা কর্তৃপক্ষ গত ৮ ও ৯ মার্চের নির্ধারিত রোস্টার লঙ্ঘন করেছে। ফলে অনেক পাম্প মালিক পরপর দুই দিন অপেক্ষার পরও তেলের দেখা পাননি। এর প্রভাবে অনেক পেট্রোল পাম্প বর্তমানে বন্ধ হয়ে আছে। 
তথ্যমতে, যমুনা অয়েলের এই অব্যবস্থাপনার কারণে বাগেরহাট জেলার একটি, চুয়াডাঙ্গার তিনটি, ফরিদপুরের ছয়টি, গোপালগঞ্জের চারটি, যশোরের দুইটি, ঝিনাইদহের একটি এবং খুলনা জেলার দুইটিসহ কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও সাতক্ষীরা জেলার একাধিক পেট্রোল পাম্পে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। খুলনার জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে বিষয়টি যমুনা সেলসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বারবার জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, গত রোববার থেকে সরকারি নির্দেশনায় সকল এজেন্সিকে তেল দেয়া বন্ধ রয়েছে। পেট্রোল পাম্প মালিকদের রোস্টারের বিষয় সর্বোচ্চ ক্ষমতা খুলনা অফিসের এজিএম এর। 
এদিকে পাম্পে তেল না থাকায় সাধারণ গ্রাহকদের রোষানলে পড়ছেন মালিক ও শ্রমিকরা। সোমবার সকালে খুলনা ফিলিং স্টেশনে তেল না পেয়ে পেট্রোল পাম্প শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয় বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। একপর্যায়ে সেখানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় পেট্রোল পাম্প মালিকরা এসে বিষয়টি সমাধান করেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিপোর অব্যবস্থাপনার কারণে তারা সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন।
সরেজমিনে সোমবার দুপুরে যমুনা ডিপোর সামনে গিয়ে দেখা যায় দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর চরম অনিশ্চয়তার চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, যমুনা সেলস সেন্টার থেকে সাধারণ ডিলারদের পাশ কাটিয়ে প্রভাবশালী ও বিশেষ ব্যক্তিদের ‘ভিআইপি’ পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। 
যশোর থেকে আসা এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দূর থেকে এসেও তেল পাচ্ছি না। অথচ যারা প্রভাবশালী, তাদের বিশেষ কায়দায় মুখ চিনে তেল দেওয়া হচ্ছে। যমুনা সেলসে বর্তমানে ক্ষমতার জোরে বণ্টন চলছে, সাধারণ এজেন্টদের কোনো পাত্তাই নেই।”
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যমুনা অয়েলের সেলস বিভাগের এজিএম আব্দুল বাকির মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
নগর ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী এবং পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সদস্য সুলতান মাহমুদ পিন্টু বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুই দিনের মধ্যে সব পাম্প মালিকের তেল পাওয়ার কথা ছিল। পদ্মা ও মেঘনায় ডিস্ট্রিবিউশন সঠিকভাবে চললেও যমুনায় তা হচ্ছে না। যমুনা কর্তৃপক্ষের এই একগুঁয়েমি ও বৈষম্যের কারণে জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।” ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়েছেন, অবিলম্বে প্রশাসন বা সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ না করলে তারা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ