খুলনা | মঙ্গলবার | ১০ মার্চ ২০২৬ | ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

খুলনাসহ ১৩ জেলায় উদ্বোধন আজ

প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৫৬৪ নারী

বিশেস প্রতিবেদক |
০১:৩৩ এ.এম | ১০ মার্চ ২০২৬


নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষে নারীপ্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। পাইলট কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার এ কার্ড পাবে।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশের নারীরা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে ভাতা পেয়ে যাবেন।
সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মোঃ জাহিদ হোসেন। উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের ৫ জন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পান সেক্ষেত্রে সেই সব বিদ্যমান সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় যোগ্য উপকারভোগীরা পাইলটিং পর্যায়ে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রাপ্ত হবেন এবং পরবর্তীতে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয় বলেও জানান তিনি।
ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল), রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাই করা হয়।
পাইলট পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া যায়। এরপর একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নেওয়া, সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগী হওয়া ইত্যাদি বিবেচনায় চ‚ড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারী প্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে কোন পরিবারের কোন সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন, ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবার প্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী হিসেবে চাকুরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবে না। এছাড়াও পাইলটিং পর্যায়ে কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন- গাড়ি, এসি) থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে ওই পরিবার ভাতা প্রাপ্তির যোগ্য বিবেচিত হবেন না, বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ করা অর্থ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ভাতা জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী তার মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমা হবে।
তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহকালীন সময়েই উপকারভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক এ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে করে কোনো ধরনের বিলম্ব, এ্যাকাউন্টে জমা বা কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ ব্যতীত উপকারভোগীরা ঘরে বসেই সরাসরি সরকার হতে ভাতা প্রাপ্ত হবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্টের ভিত্তিতে সম্পন্ন হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপযুক্ত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
মন্ত্রী বলেন , প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, পাইলটিং পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষে জুন-২০২৬ সময়ের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা (৬৬.০৬ শতাংশ) সরাসরি নগদ সহায়তা প্রদান এবং ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা (৩৩.৯৪ শতাংশ) কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম প্রণয়ন, কার্ড প্রস্তুতি ইত্যাদিতে ব্যবহার করা হবে।  
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।
একজন ব্যক্তি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি করলে তিনি এ সুবিধা পাবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “নির্দলীয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ সরকারের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়ভাবে চিন্তা করা হয়েছে এবং স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়, বরং সকল নাগরিকের জন্য। “এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের ধারণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে সব তথ্য জনগণের কাছে থাকবে। তো এই ফ্যামিলি কার্ড ব্যবস্থা সার্বজনীন, অর্থাৎ এখানে কোনো দলীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই।” কোথাও এর ব্যত্যয় হলে মন্ত্রণালয়ে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ