খুলনা | মঙ্গলবার | ১০ মার্চ ২০২৬ | ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

শহরে যান চলাচলে সুশৃঙ্খল করতে চাই : কেসিসি প্রশাসক

নগরীতে বাস ও ট্রাকগুলিকে স্ট্যান্ডের মধ্যে রাখতে বাধ্য করা, নির্মাণ সামগ্রী সড়কে না রাখাসহ নানা নির্দেশনা

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:২৮ এ.এম | ১০ মার্চ ২০২৬


মহানগরীর যানজট নিরসনকল্পে কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগসহ পায়ে চালিত ও ব্যাটারী চালিত রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও মাহেন্দ্র মালিক ও চালক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে সভা সোমবার সকালে নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। যানজট সম্পর্কিত পত্রিকায় প্রকাশিত জনভোগান্তির সংবাদ ও জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির লক্ষে কেসিসি কর্তৃক এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয় যানজটের জন্য অনানুমোদিত ইজিবাইক ও রিকশা ছাড়াও ডিভাইডারসমূহে ঘন ঘন ইউটার্ণ রাখা, সড়কে পর্যাপ্ত জেব্রা ক্রসিং না থাকা, গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহে যাত্রি ওঠানো ও নামানো, ইজিবাইক ও রিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকা, বড় বড় মার্কেট, হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের নিজস্ব পার্কিং স্পেস না থাকায় সড়কের ওপর অসংখ্য গাড়ি ও বাইক পার্কিং করে রাখাসহ ভ্রাম্যমান হকাররাও যানজট সৃষ্টির জন্য সমান দায়ী। বিশেষ করে নগরীর শিববাড়ি, পাওয়ার হাউজ ও ফেরিঘাট মোড়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহে এ সকল বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার পাশাপাশি ওয়াসা কর্তৃক সড়কে স্যুয়ারেজ লাইন স্থাপনের কাজ রাতে করাতে পারলে যানজট নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে মতামত ব্যক্ত করা হয়। যানজট মুক্ত নগরী গড়ে তুলতে কেসিসি’র যে কোন কার্যক্রমে ট্রাফিক বিভাগ সকল প্রকার সহযোগিতা করবে মর্মে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সভায় জানানো হয়। 
উল্লেখ্য, নগরীতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য কেসিসি কর্তৃক প্রায় ১০ হাজার ইজিবাইক চলাচলের অনুমতি দেয়া আছে। এছাড়া ১৭ হাজার রিকশার লাইসেন্স দেয়া হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রিকশার লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে মাত্র ৬শ’ ৮০টি। আদালতে মামলা চলমান থাকায় রিকশার লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুমোদনের বাইরে অধিকাংশ ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত রিকশা বাইরে থেকে শহরে প্রবেশ করে। বাইরের ইজিবাইকের প্রবেশ বন্ধ করা গেলে যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে বলে সভায় জানানো হয়।
সভাপতির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, শহরে যান চলাচলের বিষয়টি আমরা সুশৃঙ্খল করতে চাই। জনগণকে একটি সুন্দর শহর উপহার দিতে হলে যানজট নিরসন করা অপরিহার্য। সামগ্রিক বিষয়ে পর্যালোচনা করে রিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। এতে কেউ স্বল্প ক্ষতির সম্মুখীন হলেও জনস্বার্থে তা মেনে নেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহŸান জানান। 
সভায় স্বল্প সময়ের মধ্যে বাস ও ট্রাকগুলিকে স্ট্যান্ডের মধ্যে রাখতে বাধ্য করা, নির্মাণ সামগ্রী সড়কে না রাখা, ব্যবসায়ী কর্তৃক দোকানের সামনে সড়কের ওপর পণ্য রাখতে না দেয়া, সড়কে যত্র-তত্র গাড়ি পার্কিং না করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে রিকশা ও ইজিবাইকের জন্য স্ট্যান্ড নির্মাণ ও হকারদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট কোহিনুর জাহান, স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম, কেএমপি’র উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) মোঃ ছয়রুদ্দীন আহমেদ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, কেসিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদ, সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, লাইসেন্স অফিসার মোঃ দেলওয়ার হোসেনসহ পায়ে চালিত ও ব্যাটারী চালিত রিকশা, ইজিবাইক, সিএনজি ও মাহেন্দ্র মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ