খুলনা | রবিবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় আদিবাসীদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেবে ভারত

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৩ এ.এম | ০৮ অগাস্ট ২০২৫


বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী আদিবাসী স¤প্রদায়ের মানুষদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এমন ঘোষণায় রাজ্যের মুসলিম স¤প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা গত (৬ আগস্ট) একটি ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে সংবেদনশীল এলাকায় বসবাসরত এবং নিজেদের জীবনের জন্য হুমকির মুখে থাকা আদিবাসীরা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
যদিও ভারতের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন অত্যন্ত কঠোর, তা সত্তে¡ও এই ঘোষণা এসেছে আসাম সরকারের পক্ষ থেকে। মুখ্যমন্ত্রীর এমন উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। কংগ্রেসের নেতা গৌরব গগৈ এক্স-এ দেওয়া পোস্টে বলেছেন, ‘এই পদক্ষেপের ফলে গ্যাং সহিংসতা, ব্যক্তিগত প্রতিশোধমূলক অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। এটি সুশাসনের নয়, বরং আইনহীনতার দিকেই একটি বিপজ্জনক পদক্ষেপ।’
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারী অসমীয়া ভাষাভাষীরা হামলার হুমকির মুখে রয়েছেন। এমনকি নিজেদের গ্রামেও তারা নিরাপদ নন।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ মানুষের বসবাস। জাতিগত, ধর্মীয় ও ভাষাগত বিভাজনের কারণে বিগত কয়েক দশকে রাজ্যটিতে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে।
২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, আসামে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৩৫ শতাংশ, যাদের বেশির ভাগই বাংলা ভাষাভাষী। যদিও তাদের অনেকেই বহু প্রজন্ম ধরে আসামে বসবাস করছেন এবং ভারতের নাগরিক, তবে রাজনৈতিকভাবে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে অনেককেই।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রশাসনের অধীনে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার বিতর্কিত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, যা মূলত বাংলাভাষী মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলের অভিযোগ।
উলে¬খ্য, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) কার্যক্রম প্রথম চালু করা হয় আসামেই। এতে প্রায় ২০ লাখ মানুষ নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েন, যাদের একটি বড় অংশই মুসলমান।
বিশ্লে¬ষকরা বলছেন, অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত রাজ্যে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়াবে এবং জাতিগত বিভাজনকে উসকে দিতে পারে। 

্রিন্ট

আরও সংবদ