খুলনা | রবিবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

ভারতে পোশাকের অর্ডার স্থগিত করছে বড় বড় মার্কিন ব্র্যান্ড

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩৬ পি.এম | ০৮ অগাস্ট ২০২৫


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের জেরে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট, টার্গেটসহ বড় বড় মার্কিন খুচরা বিক্রেতারা ভারত থেকে পোশাকের অর্ডার স্থগিত করেছে।

শুক্রবার বেশ কয়েকজন রফতানিকারকের বরাতে এক প্রতিবদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারতের মোট বস্ত্র ও পোশাক রফতানির ২৮ শতাংশই গেছে দেশটিতে, যার মূল্য ছিল ৩ হাজার ৬৬১ কোটি ডলারের বেশি। তবে ট্রাম্পের আরোপিত উচ্চ শুল্কের জেরে রফতানি খরচ ৩০ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে মার্কিন ক্রেতাদের পণ্য অর্ডার ৪০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে, যার ফলে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি ডলার ক্ষতি হতে পারে।

রফতানিকাররা জানিয়েছেন, ‘মার্কিন ব্র্যান্ডগুলো পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্যের চালান আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছে। শুল্ক আরোপের কারণে ক্রেতারা বাড়তি খরচ ভাগাভাগি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ভারতীয় রফতানিকারকরই এই বোঝা বহন করতে বলেছে।

তামিলনাড়ুর এক রফতানিকারক জানিয়েছেন, তার মার্কিন ক্রেতা তাকে ৮০ হাজার ডলার মূল্যের টি-শার্ট এবং পোশাকের চালান স্থগিত করতে বলেছেন।

ব্যবসায়িক উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘তারা চায় আমরা দাম কমাই।’

এদিকে কিছু রফতানিকারক বলেছেন, বৃহত্তর ক্ষতি এড়াতে তারা কিছু ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

ভারত বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম বস্ত্র ও পোশাক রফতানিকারক দেশ। উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন আমদানিকারকরা বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ভারত। পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানের থাকা বাংলাদেশ ও তৃতীয় অবস্থানের থাকা ভিয়েতনাম উভয় দেশের ওপরই ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প।

ভারতের পোশাক প্রস্তুতকারক সমিতির প্রধান পরামর্শদাতা রাহুল মেহতা বলেন, ‘ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৫০ শতাংশ শুল্কের ফলে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতীয় পোশাকের দাম ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তাহলে কেউ কেন এত বেশি মূল্যে পণ্য কিনতে চাইবে? এটা খুবই চাপের পরিস্থিতি...।’

তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, অতিরিক্ত শুল্কের ফলে কেবল বিদ্যমান পণ্যের চালান বন্ধই হয়নি, বরং আগামিতে রফতানি আদেশেও বড় ধরনের পতন দেখা দিতে পারে। যার ফলে কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং লাখ লাখ মানুষের চাকরি হারিয়ে বেকারত্বের আশঙ্কা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার এক নির্বাহী আদেশে রাশিয়ার তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। এর ফলে আগের ২৫ শতাংশসহ ভারতের ওপর মোট শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ২৫ শতাংশ শুল্ক আগামী ২৮ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

্রিন্ট

আরও সংবদ