খুলনা | রবিবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ১৬ ভাদ্র ১৪৩২

‘ভোট গণনার সময় সাংবাদিকরা থাকতে পারবেন তবে মাঝপথে বেরিয়ে যেতে পারবেন না’

‘ফিরছে ‘না’ ভোট, থাকছে না ইভিএম নির্বাচন ছাড়া জয়ের সুযোগ নেই’

খবর প্রতিবেদন |
০১:০৪ এ.এম | ১২ অগাস্ট ২০২৫


আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে থাকছে না ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। এ সংক্রান্ত সব বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ‘না’ ভোটের বিধান। কোথাও একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় জয়ী হতে পারবেন না, তাকে ‘না’ ভোটের সঙ্গে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে জয়ী হতে হবে। যদি ‘না’ ভোট বেশি হয়, তাহলে ওই আসনে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়া, ফলাফল বাতিল করার বিষয়ে ইসির ক্ষমতা পুনর্বহাল করা হয়েছে। ভোটে কোনও অনিয়ম হলে একটি, দুইটি কেন্দ্র অথবা পুরো আসনের ফল নির্বাচন কমিশন চাইলে স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকরের বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আর ভোট গণনার সময় সাংবাদিকরা থাকতে পারবেন। তবে মাঝপথে বেরিয়ে যেতে পারবেন না।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কারের একগুচ্ছ সুপারিশ চূড়ান্ত করতে মুলতবি বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। এই বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভা শেষে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশন (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল­াহ।
তিনি আরও জানান, কোনও রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হলে নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলে ইসি কি করবে তার উলে­খ ছিল না। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বড় বিষয়ে ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত দেয়া গেলে মাঝারি বিষয়েও ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ আছে। তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলে নিবন্ধন বাতিল করা যাবে।
এদিকে, হলফনামায় মিথ্যা তথ্য থাকলে নির্বাচিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে ইসি পদক্ষেপ নিতে পারবে, এমন সিদ্ধান্তের কথাও জানান ইসি আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল­াহ।
সানাউল­াহ জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ২০২৫-এর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ইভিএম প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকলেও তাকে বিনা প্রতিদ্ব›িদ্বতায় জয়ী ঘোষণা করা হবে না। বরং তাকে ‘না’ ভোটের বিরুদ্ধে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে হবে। যদি ‘না’ ভোট বেশি হয়, তবে ওই আসনে পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুইজন প্রার্থী সমপরিমাণ ভোট পেলে লটারি নয় পুনরায় নির্বাচন হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হলে একটি, দু’টি অথবা পুরো আসনের ফল নির্বাচন কমিশন চাইলে বাতিল করতে পারবে।
হলফনামা ও অনুদান সংক্রান্ত বিধান : হলফনামায় দেয়া তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে নির্বাচিত হওয়ার পর পাঁচ বছরের মধ্যে কমিশন ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং প্রয়োজনে সদস্য পদ বাতিল করতে পারবে।
প্রার্থীরা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান নিতে পারবেন, তবে তা অবশ্যই ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে।
দলীয় প্রতীক ও নিবন্ধন : জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করলেও প্রার্থীদের দলীয় প্রতীকে ভোট করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা ৮৪টি নতুন দলের মধ্যে ২২টি দল বিবেচনায় এসেছে, যাদের মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই চলছে। এছাড়া ৮৩টি সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আপত্তি পেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সমান ভোটে পুনঃনির্বাচন : দুই প্রার্থী সমান ভোট পেলে আর লটারি নয়, সে ক্ষেত্রে পুনরায় নির্বাচন হবে।

্রিন্ট

আরও সংবদ