খুলনা | রবিবার | ৩১ অগাস্ট ২০২৫ | ১৫ ভাদ্র ১৪৩২

ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রীর দাপটে এখনো তটস্থ কেসিসি কর্মচারীরা!

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:২১ এ.এম | ১৩ অগাস্ট ২০২৫


খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) কর্মকর্তা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস শুক্লার দাপটে এখনো তটস্থ ফ্যাসিবাদ বিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে স¤প্রতি ধর্মীয় স্থানসমূহ পরিদর্শনের জন্য ভারত গমনের লক্ষ্যে ভিসা করার অনুমতি পাওয়ায় নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার গুঞ্জন চলছে নগর ভবনে। গেল বছরের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে দেশেই আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে তার দলের সাবেক-বর্তমান নেতা-কর্মীদের সাথে বিভিন্ন ভাবে যোগাযোগ করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন-এমনি পরিস্থিতিতে তার ভারতের ভিসা করার অনুমতি পাওয়াটা ভাবিয়ে তুলেছেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে খুলনা মহিলা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেত্রী ছিলেন। তার এক বছর পর ২০১১ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনে পেশকার পদে চাকুরি পান দলীয় বিবেচনায়। তার প্রতি তৎকালীন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সুদৃষ্টি ছিল ‘ওপেন সিক্রেট’। সে কারণেই বিধি লঙ্ঘন করে খুব সহজেই হয়ে যান সহকারী লাইসেন্স অফিসার। ক’দিন পরেই ডেপুটি কালেক্টর অব ট্যাক্স। লাইসেন্স অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ইজিবাইক ও রিকশা চালকরাও তার হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। বদলী বাণিজ্য ও চাকুরি দেয়ার নামে বিপুল অর্থ আয়ের অভিযোগ তার সহকর্মীদের মুখে মুখে। দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে নগরীর পূর্ব বানিয়াখামারে আলিশান বাড়ি ও জাহাজ কেনার উৎস সম্পর্কে। শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সখ্যতার সূত্রে সব সময়েই সুবিধার উচ্চশিখরে থাকা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক ওই সভানেত্রী বর্তমানেও রয়েছেন প্রতাপ দাপটে। গেল বছরের ৫ আগস্ট মহানগর আ’লীগের সভাপতি অব্যহতিপ্রাপ্ত সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক পালালেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তার নিয়োগকৃত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এ নিয়ে ফ্যাসিস্ট ও বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
কেসিসি’র একটি সূত্র জানিয়েছেন, ধর্মীয় স্থানসমূহ পরিদর্শনের নামে ভারত ভ্রমণের লক্ষ্যে ভিসার অনুমতি পেয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস শুক্লা। পেশকার পদে নিয়োগ হলেও বর্তমানে কর আদায় শাখার ডিসিটি হিসেবে কর্মরত তিনি।
তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস শুক্লা। তিনি বলেন, “আমি ভিসার অনুমতি নিয়েছিলাম, তবে পরে আর ভিসা করিনি। আর আমি কখনোই ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলাম না। আমার সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে দেখেন।”
তবে এসব বিষয়ে এখনি কোনো মন্তব্য নয়, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেসিসি প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার।

্রিন্ট

আরও সংবদ