খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ মার্চ ২০২৬ | ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

উদ্ধার হয়নি লুটের মালামাল : খুলনায় ট্রিপল মার্ডারের ঘটনার তদন্তে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩৭ এ.এম | ১১ মার্চ ২০২৬


নগরীর লবণচরা এলাকায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনার প্রায় তিন মাস অতিবাহিত হলেও তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পিতা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার সাত আসামির মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এখনো উদ্ধার হয়নি হত্যাকাণ্ডের সময় লুট করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এনআইডি কার্ড, জমির দলিলসহ স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা।  
ঘটনা সূত্রে, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর নগরীর লবণচরা এলাকায় নিজ বাড়িতে খুন হন একই পরিবারের তিনজন, নানী মহিতুন্নেছা (৫৩) এবং দুই নাতি-মুস্তাকিম (৮) ও ফাতিহা (৬)। ঘটনার দিন বাড়ির মুরগির খামার থেকে নিহতদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দুই শিশুর বাবা শেফার আহমেদ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ শামীম শেখকে গ্রেফতার করে। পরে হত্যার দায় স্বীকার করে শামীম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শামীম শেখ সম্পর্কে শেফার আহমেদের মামাতো ভাই হয়। 
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সেফার আহম্মেদের ভাইয়ের সাথে জমিজমা নিয়ে শামীম শেখের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিলো। তার সূত্র ধরে শেফার আহমেদের শাশুড়ি ও দুই সন্তানকে শামীম শেখ হত্যা করে। শামীম শেখ চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অস্ত্র ব্যবসায়ী। সে বিদেশে পালিয়ে ছিলো। দেশে এসে হত্যাকান্ডের পর শামীম শেখ ফের বিদেশে পালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরে ফেলে। এর আগেও শামীম শেখ র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয়। 
মামলার বাদী সেফার আহম্মেদ বলেন, ২০২৩ সালে শামীম শেখ আমার ভাইয়ের জমির অংশের জাল দলিল করে হস্তান্তর করে নিয়ে নেয়। বিষয়টি আমরা জানতে পেরে মামলা করি। শামীম জমির দলিল ডাকাতি করতে আমার বাসায় সন্ত্রাসী নিয়ে আসে। এ সময় আমার শাশুড়ি ও সন্তানদের হত্যা করে। এসময় জমির দলিলসহ কাগজপত্র, ১৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার টাকা, ২ লক্ষ ৪০ হাজার নগদ অর্থ, চেক বই, পেনশান বই ও পাসপোর্ট লুট করে নিয়ে যায় শামীম শেখ। শামীম গ্রেফতার হলেও আমার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
তিনি আরো বলেন, তদন্ত কার্যক্রমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেই। এমনকি শামীমকে গ্রেফতার করার পর পুলিশ প্রেস কনফারেন্স করছে তাও আমরা জানতাম না। অন্য একজনের কাছে থেকে জেনে আমরা উপস্থিত হই। বিদেশে শামীম পালিয়ে যাচ্ছে এমন তথ্য আমরা দিলে পুলিশ শামীমকে গ্রেফতার করে। এছাড়া পুলিশ আসামী ধরেছে কিন্তু আসামির কাছে থেকে লুট করা জিনিসপত্র উদ্ধার করতে পারেনি, যা সন্দেহ তৈরী করছে। এমনকি হত্যাকান্ডের বিষয়টি আসামীরা স্বীকার করলেও এখনো মামলার চার্জশীট দেয়নি পুলিশ। লুন্ঠিত কাগজপত্র অন্য কোনো জালজালিয়াতিতে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা তিনি প্রকাশ করেন। 
খুলনা চীফ মেট্রোপিলটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি রুহুল আমিন বলেন, লবনচরা থানাধীন এলাকায় নানী ও নাতি-নাতনি হত্যা মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জন আসামি গ্রেফতার হয়েছে। তবে দুইজন আসামি পুলিশের কাছে হত্যাকান্ডের ঘটনায় অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে তিনি জানান। 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লবনচরা থানার উপ-পরিদর্শক ইউসুফ মোল­া বলেন, এ মামলায় সাতজন আসামীর মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিসমিল­াহ নামে গ্রেফতারকৃত আসামি অন্য মামলায় গ্রেফতার হয়েছে। তাকে শোন এ্যারেস্ট দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে মামলার দুইজন আসামী শামীম ও সালমান অপরাধ স্বীকার করে  ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। 
তিনি আরো বলেন, বাকি একজন আসামিকে সনাক্ত করা হয়েছে। তাকে খুব শিগগিরই গ্রেফতার করা হবে। তবে হত্যার সময় লুন্ঠিত মালামাল এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ