খুলনা | বুধবার | ১৫ এপ্রিল ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়

বিশেষ প্রতিবেদক |
০১:৪৩ এ.এম | ১১ মার্চ ২০২৬


নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তিসংলগ্ন) ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চায় সরকার। তারই অংশ হিসেবে ফ্যামলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে। নারীদের অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতাসীন করা না গেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ৪ কোটি নারীর কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান সরকার প্রধান।
বক্তব্যের আগে কড়াইল, সাত তলা বস্তি ও ভাষানটেকের ১৭টি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলী কার্ডের রেপ্লিকা তুলে দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডাঃ জুবাইদা রহমান মঞ্চে ছিলেন।
সরকার প্রধান বলেন, বিএনপি দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর এক মাসের কম সময়ের মধ্যে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্র“তির কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক বলেছেন, তার সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণের কাজ এক মাসেরও কম সময়ে শুরু করা হয়েছে উলে­খ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে কিছুটা দেরি হলেও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়ন করা হবে ইনশাআল­াহ। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভ‚মিকা পালন করতে চাই। যে সরকার জনগণ ও দেশের জন্য কাজ করবে। আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই। তারই অংশ হিসেবে নির্বাচনের আগে আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব। জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্র“তির কাজ শুরু করেছি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা কৃষক কার্ডের কাজও শুরু করেছি। ফ্যামিলি কার্ডের মতো আগামী মাসে কৃষক ভাইদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছে দিতে সক্ষম হবো। আমরা যেকোনো ম‚ল্যে আমাদের প্রতিশ্র“তি রক্ষা করব। আমাদের জন্য আজকের দিনটি অত্যন্ত খুশি ও আবেগের দিন। 
নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী গত সপ্তাহে কৃষকদের সুদসহ কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে বলেও উলে­খ করেন প্রধানমন্ত্রী।  
নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে জনগণের প্রতিনিধিমূলক ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উলে­খ করে তারেক রহমান বলেন, এই সরকার জনগণ নির্বাচিত করেছে, কাজেই স্বাভাবিকভাবে সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য।
তারেক রহমান বলেন, এটি গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক দিন। প্রত্যক্ষ ভোটে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য।
নারীদের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্ধেক জনসংখ্যাকে যদি ক্ষমতায়ন না করা যায় তবে দেশ সামনের দিকে এগোবে না।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রথমে পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। করাইল ও ভাসানটেকের ১৫ হাজার নারীকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছরে চার কোটি পরিবারের মাঝে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের ওয়াদা দিয়েছিলাম। এক মাসের কম সময়ে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। কৃষক কার্ডও আগামী মাসে দেওয়া হবে। কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন করায় আজ বিএনপি’র জন্য ঐতিহাসিক দিন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড আজ স্বপ্ন নয়। ফ্যামিলি কার্ড আজ সবার দোরগোড়ায়। ফ্যামিলি কার্ড একটি ভরসার নাম, আস্থার নাম।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন দেশের ক‚টনীতিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও দেশের বিশিষ্ট নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 
শুরুতে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। এ জন্য প্রতিটি উপজেলার তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চ‚ড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় সরকার মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে উপকারভোগী পরিবারগুলোকে ভাতা দেবে। ভাতা দেওয়া হবে উপকারভোগীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে। তারা ঘরে বসেই ভাতা পাবেন।
পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী জুন পর্যন্ত চার মাসের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরীক্ষাম‚লক পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করে পরিবারগুলো হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
আগে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি সঠিক পাওয়া গেছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা নিচ্ছেন, সরকারি চাকরি করছেন বা পেনশনভোগী আছেন ইত্যাদি বিবেচনায় চ‚ড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।
কোনো পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা, অনুদান, পেনশন পেয়ে থাকলে, নারী পরিবার প্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হিসেবে চাকরিরত থাকলে ওই পরিবার ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য হবে না।
এ ছাড়া কোনো পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকলে বা বিলাসবহুল সম্পদ, যেমন গাড়ি, এসি থাকলে বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলেও ওই পরিবার ভাতা পাবে না।
সরকার বলছে, ভাতাভোগী নির্বাচনে কোনো দল বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। আর পরীক্ষামূলক প্রকল্প শেষ হওয়ার পর হতদরিদ্র পুরুষ প্রধান পরিবারকেও ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ