খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ মার্চ ২০২৬ | ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২

৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মহারাজ ও স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ভান্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি |
০২:০৬ এ.এম | ১১ মার্চ ২০২৬


পিরোজপুর-২ আসনের (ভান্ডারিয়া-নেছারাাবাদ-কাউখালি) সাবেক সংসদ সদস্য মহিউদ্দীন মহারাজ ও তার স্ত্রী-সন্তানের বিরুদ্ধে প্রায় ৬০ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার পিরোজপুর সমন্বিত জেলা দুদক কার্যালয়ে এ বিষয়ে তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোর বাদী হয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেন ও মো. মনিরুল ইসলাম। মামলা দায়েরের আগে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক অনুসন্ধান করেন দুদক পিরোজপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ আমিনুল ইসলাম। মামলার অপর দুই আসামি হলেন মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুম এবং তাদের ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজের নামে ১২২টি দলিলে জমি, বাড়ি, মার্কেট ও দোকানসহ মোট ২৭ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার ৪২৫ টাকার স্থাবর সম্পত্তি পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ব্যাংক সঞ্চয়, ব্যবসার মূলধন, বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও দু’টি বিলাসবহুল গাড়িসহ ১৪ কোটি ৫৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৮৩ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
২০১৫ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার পারিবারিক ব্যয় হয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ ৭৩ হাজার ৫৪২ টাকা। এতে তার মোট ব্যয় ও সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য বৈধ আয় পাওয়া গেছে মাত্র ৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৮ হাজার ১১৮ টাকা। কোনো দায়-দেনা না থাকায় তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫১ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার ৬৩১ টাকা। মহারাজের স্ত্রী উম্মে কুলসুমের নামে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫৩ হাজার ৮০০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৬ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ৮৪২ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তার কর পরিশোধ ও পারিবারিক ব্যয় ৫১ লাখ ১ হাজার ৬৮৪ টাকা। কিন্তু তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮০০ টাকা।
দুদকের অনুসন্ধানে তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ৯৮ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৬ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মহারাজ দম্পতির ছেলে শাম্মাম জুনাইদ ইফতির মোট আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ ২০ হাজার ৬৭৬ টাকা। ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার লেখাপড়ার ব্যয় হয়েছে ৬৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ কোটি ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৬ টাকা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ১ কোটি ৫১ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। এ হিসাবে তার অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৯২ টাকা। দুদক এজাহারে উল্লেখ করেছে, ইফতি একজন ছাত্র হওয়ায় তার নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস নেই। ধারণা করা হচ্ছে, তার বাবা মহিউদ্দীন মহারাজ দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ছেলের নামে প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন। এ কারণে অবৈধ অর্থ তার দখলে থাকায় তাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ